ঢাকামঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:৩৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়ীতে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

মো. কাশেম হাওলাদার
জুন ২৬, ২০২২ ৭:২৮ অপরাহ্ণ
পঠিত: 324 বার
Link Copied!

বরগুনার তালতলীর সোনাকাটা ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রার্থীর বাড়িতে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই ছেলের নেতৃত্বে হামলা, ভাংচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসময় হামলায় নৌকা প্রার্থীর স্ত্রীসহ অন্তত ১০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে বলে দাবী করেছন নৌকার প্রার্থী সুলতান আহমেদ ফরাজী ।

এছাড়াও হামলায় ঘটনায় ১৩ টি মটরসাইকেল ভাংচুর ও নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকা সহ স্বর্ণালংকার লুটপাটেরও অভিযোগ এনেছেন নৌকার প্রার্থী।

এঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ আবু বকর,আবু ও শাহিন নামের তিন জনকে আটক করেছে।

গত কাল শুক্রবার(২৪জুন) বিকেল থেকে সন্ধা পর্যন্ত হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্হানীয়দের সুত্রে জানা যায়।

তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে স্থগিত হওয়া নির্বাচন ২৯ শে জুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা না থাকলেও এই নির্বাচন কে সামনে রেখে ভোটের মাঠ গুছানোর জন্য ভোটারদের ধারে ধারে যাচ্ছেন নৌকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরদের কর্মীরা। আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়ি ও নৌকার প্রার্থীর বাড়ি পাশাপাশি হওয়াতে একই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয় দুই বাড়িতে।

এরই ধারাবাহিকতায় ভোটারদের বাড়ি থেকে নৌকার প্রার্থী সুলতান ফরাজীর বাড়ির গেট দিয়ে জাহিদসহ দুই ব্যক্তি দুইটি মটরসাইকেল প্রবেশের সময় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরাজী ইউনুচ এর দুই ছেলে সুজন ফরাজী, সজিব ফরাজী ও রিদয় সহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। সেখান থেকে কোনোক্রমে মটরসাইকেল রেখে প্রাণে বেঁচে বাড়িতে ঢুকলে সেখানেও তার উপর হামলা চালানো হয়। বাড়িতে নৌকা প্রার্থীর স্ত্রীসহ ১০ জনকে জিআই পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ সময় প্রার্থীর বাড়িতে থাকা ১৩ টি মোটরসাইকেল, সিসি ক্যামেরা ও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করে লুটপাট করে হামলাকারীরা। নৌকা প্রার্থীর বাড়িতে রাখা প্রায় ৩ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকারও হামলাকারীরা নিয়ে গেছে বলে জানান তারা।

এরপরে আহতদের উদ্ধার করে আমতলী ও বরিশাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে জানানো হলে তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। পরে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপুসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলায় জড়িত থাকা সন্দেহে আনারস প্রতিকের প্রার্থীর তিনজন কমীর্কে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- প্রার্থীর স্ত্রী হেপী বেগম (৪৫),রেজাউল (২৩),জাহিদ (৩০), বাবুল (৪৩) , লতিফ ফকির (৪২), পান্না হাওলাদার (৩৬), জাহানারা (৩৫), এলিজা বেগম (৪০), জাহিদুল (২৫) ও টিপু (২২)।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান ফরাজী বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যই পরিকল্পিত হামলা করা হয়। আমি বাড়ীতে না থাকায় আল্লাহর রহমতে বেঁচে যাই।

আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফরাজী ইউনুচ বলেন, এ ঘটনা তারা নিজেরা ঘটিয়েছে দাবী করে বলেন, আমাকে প্রচারনায় নামতেই দেয়া হচ্ছেনা। আমার কর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে,আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে নৌকার কর্মীরা। হামলা করে আমার বাড়ীর সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আমি যাতে নির্বাচন করতে না পারি এজন্য প্রকাশ্য উপজেলা আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক আমার ও আমার দু’ছেলের পা’ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনু এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেখানে ১৫ জুনের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরা ৫টি ইউনিয়নে জয়লাভ করেছে, সেখানে কেন একটি ইউনিয়নে জয়ের জন্য নৌকার কর্মীরা হামলা করবে? ঐ প্রার্থী ও তার কর্মীরা পরাজয় নিশ্চিত মনে মনে করে নিজেরাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে আমি নিজে ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছি। এঘটনায় তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।