ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১৫

বরগুনার জন্য সেতু চাইলেন সিরাজ উদ্দিন আহমেদ

রুদ্র রুহান
মার্চ ২৬, ২০২২ ১১:৪০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 549 বার
Link Copied!

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদীতে দুটি সেতু চেয়েছেন স্বাধীনতা পদক পাওয়া ব্যক্তিত্ব সিরাজ উদ্দিন আহমেদ। 

শনিবার সন্ধ্যায় বরগুনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১০ দিনব্যপি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মেলার সমপনি দিনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

বরগুনা মহাকুমার সাবেক এসডিও সিরাজউদ্দীন আহমেদ বক্তব্যে বলেন, আমি যখন ১৯৬৯ সালের ৮ মে বরগুনা মহাকুমা এসডিও হিসেবে যোগদান করি। সেসময় বরগুনায়  শুধুমাত্র গোলের ঘর ছাড়া কিছু ছিলোনা। একটি জাতির উন্নয়নের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। আমি তখন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে ইর্ষণীয় উন্নয়ন হচ্ছে । আমি এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি দাবি পেশ করতে চাই। এই বরগুনা জেলার উন্নয়নে বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদীতে দুটি সেতু চাই। কারণ, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তরান্বিত করতে এই দুটি সেতুর গুরুত্ব অপরীসিম। এ দুটি নদীতে সেতু হলে মংলা পায়রা বন্দরের সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। এ জেলার মানুষের কাছে আমার ঋণ আছে। আমি যে সম্মান পেয়েছি সে অর্জণের জন্য এই জেলার মানুষের ভূমিকা ছিল। আমার দাবি পুরণ হলে খুবই আনন্দিত হব।

পরে তিনি অনুষ্ঠানের অতিথি ও মেলার দর্শনার্থীদেরকে স্বাধীনতা পদক প্রদর্শন করেন।

ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৪১ সালে ১৪ অক্টোবর বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদ পাশা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম জাহান উদ্দীন ফকির, মায়ের নাম লাইলি বেগম। পাঁচ বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা ও শায়েস্তাবাদ হাই স্কুল থেকে ১৯৫৬ সালে মেট্রিক পাস করেন। ১৯৫৮ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএ ও ১৯৬০ সালে বিএ পাস করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে অর্থনীতিতে এমএ এবং ১৯৬৮ সালে এলএলবি পাস করেন।

একাধারে তিনি ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা’র খসড়ার প্রণেতা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠতা। এছাড়া তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সময় পত্রিকার উপদেষ্টা, জাতীয় শিক্ষা নীতির প্রণয়ন কমিটির সদস্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য, বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ছিলেন।

অবদান রেখেছেন বরিশাল বিভাগের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এছাড়া বরগুনা জেলার উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে, জেলার জনগণ বরগুনার টাউন হলের নাম করণ করেছেন সিরাজ উদ্দীন মিলনায়তন।

সিরাজ উদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসনের দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তিনি বরগুনা মহকুমার এসডিও, বৃহত্তর খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

খুলনাতে তিনি ১৯৭৭-১৯৮০ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। এই সময় তিনি খুলনায় অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ‘জেলা পরিষদ হতে খুলনা জেলা’ নামক গ্রন্থ প্রকাশেও তার ভূমিকা রয়েছে।

এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি বরগুনা মহাকুমার প্রশাসক ছিলেন। সেই সময়ে সরকারের অধীনে চাকরি না করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

এছাড়াও তিনি অর্থনীতি ও প্রশাসনে অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রশিক্ষন নিয়েছেন। জাতিসংঘ ও সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। ২০০৩ সালে ১৪ অক্টোবর তিনি চাকরিজীবন থেকে অবসর নেন।

সিরাজ উদ্দীন আহমেদের স্ত্রী মরহুম অধ্যাপিকা বেগম ফিরোজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ বর্তমানে ছেলেদের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।