ঢাকাশনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৫৫

বাংলাদেশী বঙ্গবন্ধু

রেজাউল ইসলাম টিটু
আগস্ট ১৫, ২০২২ ৫:৫০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 75 বার
Link Copied!

১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয় শাহ এ এমএস কিবরিয়াকে । সিদ্ধান্ত হয় স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সর্ব প্রথমে সোভিয়েট ইউনিয়নের আমন্ত্রনে বঙ্গবন্ধু সফর করবেন মস্কো । কিন্তু তারও পূর্বে বঙ্গবন্ধু ৬ ফেব্রয়ারী ১৯৭২ একদিনের জন্য অনানুষ্ঠানিক সফর করেন ভারত। মূলত ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের সরকার ও জনগনকে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা ও শরনার্থীদের সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা। সেই সফরে বঙ্গবন্ধু শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে ১৭ মার্চ তার জন্মদিনে আমন্ত্রন জানান এবং তার পূর্বে ভারতের সেন্য প্রত্যাহর করতে অনুরোধ করেন।

শাহ এ এম এস কিবরিয়ার উপর দায়িত্ব অর্পন করা হয় বঙ্গবন্ধুর পাসপোর্ট তৈরি করার। স্কুল জীবনে অত্যন্ত মেধাবী হবার কারনে বঙ্গবন্ধু তাকে খুব পছন্দ করতেন। যথাযথ নিয়ম পালন করে বঙ্গবন্ধুর পাসপোর্টের ফরম পুরন করে তার কাছে নিয়ে গেলেন তিনি। এরপর বললেন সককিছু পুরন করে রেখেছি আপনি শুধু স্বাক্ষর দিলেই হবে। বঙ্গবন্ধু প্রশ্ন করলেন জন্মস্থানের স্থানে কি লিখেছ ?

তিনি উত্তর দিলেন ফরিদপুর লিখেছি । বঙ্গবন্ধু ভরাট কন্ঠে ধমকের শুরে বলনেন আমার জন্ম কি ফরিদপুর । সমগ্র বাংলাদেশকেই আমার জন্মভুমি মনে করি । ফরিদপুর কেটে ওখানে বাংলাদেশ লেখ। শাহ এমএস কিরিয়া তার নির্দেশ মতো তাই করলেন। অলোচিত বিষয়ের অলোকে বিবেচনা করা যায় বঙ্গবন্ধু তার জন্মস্থান নিদৃষ্ট কোন এলাকা বা অঞ্চল মনে করতেন না। এ ছাড়া দেশের জন্য কতটুকো ভালোবাসা ধারন করতেন।

পরবর্তিতে শাহ এমএস কিবরিয়াকে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। শেখ হাসিনা সরকারের এক সময়ের অর্থ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এই মেধাবী রাজনীতিবিদ। দিনের আলোতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। যুদ্ধপরবর্তী সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা যুদ্ধাহত বিডিয়ার সদস্য ও শহীদ বিডিআর সদস্যদের পরিবারের লোকদের ডেকেছিলেন তাদের সাহায্য সহায়তা করার জন্য ।

এসময় আসলেন নরসিংদী এলাকার একজন অধিবাসী একজন শহীদ বিডিআর সদস্যের স্ত্রী। সেই মহিলা নরসিংদী এলাকার প্রচলিত ভাষায় তার স্বামী হত্যার নির্মম কাহিনী বর্ননা করা শুরু করলেন। সেই কাহিনী ছিল মর্মস্পর্শী। পিলখানা থেকে তার স্বামী বন্ধী হবার পরে কিভাবে গুলি ও বেয়োনটের খোচায় আহত হয়েও সেই সৈনিক মৃত্যূর হাত থেকে বেচে যায় ।

এরপর তিনি চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতে থাকেন । রাজাকারদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাকিস্থানী সৈন্যরা তার স্বামীকে আটক করে বেয়োনিট দিয়ে খুচিয়ে স্ত্রীর সামনে প্রচন্ড কষ্ট দিয়ে গুলি করে হত্যা করে । বঙ্গবন্ধুর সাথে থাকা সরকারী কর্মকর্তারা মহিলাকে ঘটনা সংক্ষিপ্ত করতে অনুরোধ করেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদের হাত ইশারায় থামিয়ে দেয় একসময় কর্মকর্তারা তাকিয়ে দেখেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী দক্ষিন এশিয়ার অবিসংবাদিত নেতা ইতিহাসের লৌহ মানব রাষ্ট্র প্রধান জাতির জনকের দুই চোখে অস্রু ধারা ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে জনগননের জন্য বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা যুক্ত হয় আরও বেশি মমতা ও আবেগ। মানুষ লক্ষ করেছে বঙ্গবন্ধু যেখানেই জনসভা করতে গেছেন বাংলার দুঃখি মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখে তিনি শিশুর মত ক্রন্দন করেছেন । তার এই কান্নার মধ্যে কোন অভিনয় ছিলনা।

তিনি বলেছেন , আমার বাংলার দুঃখী জনগন বেশি কিছু চায়না , তারা মাটির মানুষ, তাদের জন্য কিছু করতে না পারলে আমার সারা জীবনের সকল আন্দোলন সংগ্রাম সবই বৃথা। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের বুলেট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শ স্বপ্নকে হত্যা করতে পরেনি।

বঙ্গবন্ধুর আত্মার উপলদ্ধি স্বরন করে কবি যথার্থই বলেছেন যেন বঙ্গবন্ধু বাঙালীদের বলছেন বলছেন, যদি ভালোবাসো আমাকে , তাহলে বুকে জমা রাখো শোক, আমার স্বপ্নের সোনার বাংলা পুনরায় গড়া হোক , তবেই আমাকে পাবে সবখানে , আমি তোমাদেরই লোক, তোমরা জাননা ইতিহাস জানে আমার বিনাশ নাই , এই বংলার প্রতিটি প্রহরে আমি রোজ জন্মাই।

 

লেখক (সাংবাদিক) তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক, বরগুনা প্রেসক্লাব

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।