ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:১৩

শবে বরাতের বিশুদ্ধ আমল ও ফজিলত

ডেস্ক রিপোর্ট
মার্চ ১৮, ২০২২ ৫:০৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 275 বার
Link Copied!

আজ শুক্রবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। শবে বরাতের ফজিলত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ ঈমানদারদের ইবাদতের জন্য কিছু বরকতপূর্ণ দিন ও রাত নির্দিষ্ট করেছেন। তার মধ্যে শবে বরাত অন্যতম। এ রাতে নফল নামাজ, রোজা ও কবর জেয়ারত করা মোস্তাহাব বা উত্তম আমল।

ফারসি ‘শব’ অর্থ রাত, আর আরবি ‘বারাআত’ অর্থ মুক্তি। শবে বরাত অর্থ মুক্তির রজনি। আরবি পরিভাষায় একে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়। শাবান মাসের ১৫তম এই রাতে গুনাহগার ঈমানদারদের জন্য রয়েছে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার অপূর্ব সুযোগ। এ কারণে এই রাতকে শবে বরাত বা মুক্তির রজনী বলা হয়।

শবে বরাতে করণীয়

এ রাতের করণীয় সম্পর্কে আলী বিন আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘অর্ধ শাবানের রাত তোমরা ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছো কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করবো। আছো কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করবো। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৮৮)

অনেকে শবে বরাতের ফজিলত বিষয়ক সকল হাদিসকে জয়িফ বলে থাকেন। এটি ঠিক নয়। সনদের বিচারে সবচেয়ে উত্তম বর্ণনা, যা ইবনে হিববান বর্ণনা করেছেন। বিখ্যাত সাহাবি মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন-

‘অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সমগ্র সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)

আরো একাধিক হাসান হাদিসেও শবে বরাদের মর্যাদার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এছাড়াও শবে বরাতের রাতের আমল সম্পর্কে ‘শুআবুল ঈমান’ বায়হাকির নিম্নোক্ত হাদিসটি লক্ষণীয়। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন-

‘একবার রাসুলুল্লাহ (স.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো- তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না- হে আল্লাহর রাসুল। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। তখন নবী (স.) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (স.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত (শবে বরাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩; তাবরানি: ১৯৪)

উপরোক্ত হাদিস থেকে এ রাতের ফজিলত যেমন জানা যায়, একইভাবে এ রাতের আমল কেমন হওয়া উচিত তাও বোঝা যায়। অর্থাৎ এ রাতে দীর্ঘ নামাজ পড়া, সেজদা দীর্ঘ হওয়া, দোয়া ও ইস্তেগফার করা খুবই ফজিলতপূর্ণ আমল।

ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, বর্ণিত আছে, পাঁচ রাত্রিতে দোয়া কবুল হয়, তন্মমধ্যে একটি লাইলাতুল বরাতের দোয়া।’ (কিতাবুল উম্ম-১/২৬৪)

শবে বরাতে রোজা কয়টি রাখবেন

‘শাবান মাসে প্রায় পুরোটা সময়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা রাখতেন’ ( তিরমিজি- ১৫৫,১৫৬,১৫৯)। সে হিসাবে শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা অধিক সওয়াবের কাজ। তাছাড়া আইয়ামে বিজ তথা প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে হাদিসে। যেহেতু সহিহ হাদিসে শাবান মাসের রোজার সাধারণ ফজিলত এবং আইয়ামে বিজের রোজার ফজিলত উল্লেখিত হয়েছে, সে হিসেবে ১৫ শাবানের রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত যে অনেক, এতে সন্দেহ নেই।

অবশ্য শুধু ১৫ তারিখের দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া মাকরূহ বলেছেন কেউ কেউ। ইবনে তাইমিয়া (রহ)-এর মতও এটিই। তাঁর মতে ১৫ তারিখের সাথে দু-একদিন মিলিয়ে নেওয়া উত্তম। আর এই দিন বা রাতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সাজ-সজ্জার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া ইত্যাদি বেদআত ও ভিত্তিহীন। (ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকিম: ২/৬৩১-৬৩২)

মনে রাখা দরকার, শবে বরাতের আলাদা কোনো নামাজ কিংবা ইবাদত নেই। তাই নির্দিষ্ট সুরা দিয়ে নির্দিষ্ট রাকাতে নামাজ পড়ার ভুল প্রচলন থেকে বেঁচে থাকা দরকার। কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, নফল নামাজ, দোয়া-দরুদ, তওবা-ইস্তেগফার, দান-সদকা, উমরি কাজা নামাজ সারারাত জেগে আদায় করলে অসুবিধা নেই, বরং সওয়াব হবে। দলবদ্ধ ছাড়া একাকিভাবে কবর জিয়ারতেও কোনো সমস্যা নেই। রাসুল (স.) চুপিসারে একাকী জান্নাতুল বাকিতে কবর জিয়ারত করেছেন।

আয়েশা (রা.) বলেন-এক রাতে হজরত রাসুল (স.)-কে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন- কি ব্যাপার আয়েশা? তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তার রাসুল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? আয়েশা (র.) বললেন, আমার ধারণা হয়েছিল— আপনি অন্য কোনো বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) তখন বললেন, যখন শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত আসে, তখন আল্লাহ তাআলা এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরির পশমের চেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে তিরমিজি: ৭৩৯)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ রাতের প্রভূত কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন এবং সর্বপ্রকার অকল্যাণ থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।