ঢাকামঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৯

তৃণমূলে ক্ষোভ, যুবদলের নেতার হাতে আ. লীগের নেতৃত্ব!

কাশেম হাওলাদার
জুলাই ২১, ২০২২ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
পঠিত: 182 বার
Link Copied!

এক সময় বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. আফজাল হোসেন। এখন একই ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি।

তার বিরুদ্ধে ম্যানেজ করে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে নাম লেখানোর অভিযোগ থাকলেও একে একে ১০ বছর ধরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও নিরুপায় তারা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় অনেক ত্যাগী নেতারা সরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি শাসনামলে ২০০৫ সালে অনুমোদিত হোসনাবাদ যুবদলের কমিটি তালিকায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন মো. আফজাল হোসেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে রাতারাতি ভোল পাল্টে পুরাদস্তুর ক্ষমতাসীন দলের নেতা বনে যান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে গঠন কারা হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটির সভাপতিও নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকেই এক সময়কার যুবদলে নেতার হাতে চলছে ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব।

আফজাল হোসেন নির্বাচিত হওয়ার পর হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সরে যান তৎকালীন সভাপতি আব্দুর রহমান নান্না শিকদার। তিনি এখন হোসনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। নান্না শিকদার বলেন, ২০১৩ সালে কাউন্সিলে হঠাৎ বিএনপি নেতা আফজালের নাম প্রস্তাব করলে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যক্রম থেকে সরে আসি। শুধু আমিই নই, অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীও সরে আসে। অনেকে ক্ষুব্ধ হলেও উপজেলার নেতাদের ম্যানেজ করে আফজাল আমাদের কমিটিতে ঢুকে পড়ে। আফজালের কমিটিতে ঢোকার পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখনও ক্ষুব্ধ। তিনি কমিটিতে ঢুকে দলের না হয়ে বরং বিএনপির কাজই বেশি করছেন। তাই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম থেকে ওয়ার্ডের বর্তমান তৃণমূল নেতাকর্মীরা সব দূরে সরে আছেন।

আফজাল আগে যে যুবদলের নেতা ছিলেন তার প্রমাণ মেলে ২০০৫ সালে জেলা বিএনপি অনুমোদিত তালিকা থেকে। তবে এ ব্যাপারে আফজাল হোসেন বলেন, আমি কখনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। ২০০৫ সালের কমিটির কাগজে নাম যোগ করে তার ক্ষতি করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আফজালের এমন বক্তব্যের পর কথা হয় ২০০৫ সালের যুবদলের কমিটির সদস্য কিসলু মুন্সির সঙ্গে। তিনি বলেন, বিএনপির ক্ষমতাকালীন রাজনীতির লোভেই তিনি যুবদলে এসেছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। যে দল যখন ক্ষমতায়, সে দলে ভিড়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান ফোরকান জানান, ২০১৩ সালে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সুপারিশে কমিটি গঠিত হয়। ২০০৫ সালে অনুমোদিত যুবদলের একটি কাগজও অভিযোগ আকারে আমার কাছে এসেছে। যেসব অভিযোগ আছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।