ঢাকাশনিবার, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:৪১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পায়রা-বিষখালীতেও সেতুর আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৪, ২০২২ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 134 বার
Link Copied!

উদ্ধোধনের অপেক্ষায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বহুল প্রতিক্ষিত এই সেতুর দ্বার খোলায় বরগুনাবাসী খুশী ও লাভের অংশীদার। কিন্ত বরগুনার পায়রা ও বিষখালী দুটি নদীতে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হতাশ ও মনোকষ্টে ভুগছেন এখানকার বাসিন্দারা। পদ্মা সেতুর পুরোপুরি সুফল পেতে এই দুটি নদীতে প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ নেবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা বরগুনাবাসীর।

জেলার বিশিষ্ট নাগরিকদের মতে, নদীবেষ্টিত উপকূলীয় বরগুনা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় পায়রা ও বিষখালী এ দুটি নদী বড় প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে আন্তজেলা, বিভাগীয় শহর ও রাজধানীর সাথে যোগাযোগ, ব্যবসা বানিজ্যসহ জেলা সার্বিক উন্নয়নে এ দুটি নদী পারাপার হতে হয়। আর জেলা পরিষদের তথ্যমতে, বিষখালী ও পায়রা নদী পারাপারের জন্য ২২টি পয়েন্টে খেয়া চলাচল করে। এছাড়াও পায়রা নদীতে আমতলী-পুরাকাটা ও বিষখালী নদীতে বরইতলা-বাইনচটকী দুটি পয়েন্টে ফেরি চলাচল করে। পায়রা-মংলা পোর্ট সড়ক সংযোগের ক্ষেত্রেও এই দুটি নদী প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রকল্প ন্যাশনাল সার্ভিস উদ্বোধন উপলক্ষে ২০১১ সালের ৫ মে বরগুনায় আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরগুনাবাসীর উন্নয়নে এসময় ৪২ দফা দাবি পেশ করে জেলা আওয়ামী লীগ। ওই দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি দাবি ছিল বরগুনা-আমতলী রুটের পায়রা সেতু।

২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সপ্তম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর দায়িত্ব চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, চীন সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে নবম ও দশম মৈত্রী সেতু নিয়ে যে কথাবার্তা চলছে তার মধ্যেই রয়েছে বরগুনা-আমতলী রুটের পায়রা সেতু। এ সময় সেতুমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশে আরও নতুন দুটি সেতু (নবম ও দশম মৈত্রী সেতু) নির্মাণে চীন সরকার সহায়তা করবে। সম্ভাব্য ওই সেতু দুটিই নির্মিত হবে বরগুনার আমতলী ও পটুয়াখালীর গলাচিপায়।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বরগুনার বিষখালী নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানান। ওই বছরের আগস্ট মাসে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সেতু বিভাগের সচিব রশিদুল হাসান, সেতু বিভাগের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান, বরগুনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক মো. তোফাজ্জেল হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান সম্ভাব্য সেতুর প্রকল্প স্থানসমূহ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে বরগুনা সার্কিট হাউসে সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, সেতুর নাম হবে ‘শেখ হাসিনা পায়রা ব্রিজ’। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পায়রা নদীতে পটুয়াখালীর লেবুখালী ও মির্জাগঞ্জ এবং বরগুনা-আমতলী তিনটি সেতুই নির্মিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মির্জাগঞ্জ ও বরগুনার দুই সেতুর ডিজাইনসহ দাপ্তরিক কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্টুপ কনসালট্যান্টস লিমিটেড (ভারত), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্ট লিমিটেড ও ফিএন্ডই লিমিটেড কাজ করছে। ওই সমীক্ষা টিম পায়রা নদীর আমতলী-বরগুনার ৩-৪টি হার্ট পয়েন্টে ইতিমধ্যে সমীক্ষা শেষ করেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাব্যাপী আনন্দ মিছিলও হয়।

সেতু বিভাগের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, পটুয়াখালী- আমতলী- বরগুনা- কাকচিরা সড়কে (জ-৮৮০) পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ মিটার। প্রকল্পের অবস্থান দেখানো হয়েছে আমতলী ফেরিঘাট, আমতলী উপজেলা, বরগুনা। ব্রিজের সম্ভাব্য স্থানের একটি ম্যাপ ও প্রাক্কলিত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ কোটি টাকা।

নির্মাণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আমতলী ও বরগুনা সদর উপজেলার সঙ্গে বরগুনা জেলা শহর এবং বরিশাল বিভাগীয় শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা যা যোগাযোগব্যবস্থাকে সহজ করবে। আর অর্থনৈতিক প্রভাব হিসেবে বলা হয়েছে, এটি বরিশাল শহর ও দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে সড়ক সংযোগব্যবস্থা উন্নত করবে। সঙ্গে সঙ্গে যাতায়াতের সময়, খরচ, ধরন, নিরাপত্তা ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ উন্নত করবে এবং জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ছাড়াও সেতু বিভাগের ওয়েবসাইটে ১৮ আগস্ট ২০২০ সালের তথ্যে পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিরা সড়কে (জ-৮৮০) বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন দেখিয়ে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন দেয়া আছে। ওয়েবসাইটের আরও তথ্য অনুযায়ী, (সবশেষ ২২ মার্চ ২০২১ হালনাগাদ) চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি পাঁচ সেতু সম্ভাব্যতা সমীক্ষার তালিকায় ১ ও ৫ ক্রমিকে পটুয়াখালী- আমতলী- বরগুনা- কাকচিরা সড়কে (জ-৮৮০) বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ। পটুয়াখালী- আমতলী- বরগুনা- কাকচিরা সড়কে (জ-৮৮০) পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প দেখানো হয়েছে।

২০২১-২০২২ সালের পেশ করা বাজেটের মেগা প্রকল্পের মধ্যে এই দুটি সেতুর কথা উল্লেখ না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেন বরগুনা আইনজীবী সমিতি সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল বারি আসলাম। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিঃসন্দেহে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মাইলফক। আমরাও এর বড় সুফলভোগী। কিন্ত আমাদের এই দুটি নদী পার হতে চরম ভোগান্তি ও বিরম্বনা পোহাতে হয়। বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কের ১১২ কিলোমিটারে এখন আর কোনো ফেরী নেই। ৫টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আমাদের বরগুনাবাসীর জন্য দুটি নদীতে সেতুর কি কোনো উদ্যোগ আদৌ নেয়া হয়েছে? আমরা কেন পিছিয়ে থাকার দলে?

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, পদ্মায় সেতু না থাকায় দেশের বৃহত্তম একটি অংশ কার্যত অচল ছিল। কিন্তু সেই অচলাবাস্থা দূর হয়েছে। বর্তমান সরকারের সেতুমন্ত্রী সেতু দুটি নির্মাণের কথা জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া সমীক্ষার দলও বরগুনা এসেছিলেন। কিন্ত বাস্তবতা দেখছিনা আমরা।

যোগাযোগ করা হলে বরগুনা-১-আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু বলেন, আমাদের জন্য এই দুটি সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বরগুনার উন্নয়নের যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে পায়রা ও বিষখালী সেতু। এ নিয়ে একাধিকবার মাননীয় সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প দিয়েছেন। আমাদের সেতুর বিষয়টিও বর্তমান সরকারের গুরুত্ব বিবেচনায় রয়েছে। মূলত সেতু দুটি নির্মাণ হবে বৈদেশিক অর্থে, তাই হয়তো বর্তমান বাজেটে রাখা হয়নি। তবে এতটুকু বলতে পারি, এ সরকারের আমলেই সেতুর কাজ শুরু হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।