ঢাকাশনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪১

কমছে লঞ্চ যাত্রী

মো. জসিম উদ্দিন সিকদার
জুন ২৭, ২০২২ ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 86 বার
Link Copied!

পদ্মা সেতুর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিনাঞ্চলের নদী পথে। ঢাকা যেতে লঞ্চঘাট দিয়ে আগের মতো তেমন যাত্রী লঞ্চে উঠছেন না। সময় বাঁচাতে মানুষ সড়ক পথে যেতে শুরু করেছে। আর যারা লঞ্চে যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই অসুস্থ ও পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন।

যাত্রীদের দাবি, সড়ক পথে ঢাকায় দ্রুত যাওয়ার কারণে নদী পথে লঞ্চে যাত্রী কমছে। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এ দাবির সাথে একমত নয়।

নদীবেষ্টিত বরগুনার আমতলী-ঢাকা রুটে এমভি তরঙ্গ ৭, এমভি ইয়াদ ১, এমভি সুন্দরবন ৭ ও ঈদ ষ্পেশাল এমভি শতাব্দি বাঁধন নামের চারটি লঞ্চ সার্ভিস রয়েছে। আমতলী লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ যাত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চ যাত্রা করে। কিন্তু পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার প্রথম দিনেই লঞ্চে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে।

রবিবার আমতলী লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা যায়, লঞ্চে আগের মতো তেমন যাত্রী নেই। দুুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এমভি তরঙ্গ ৭ লঞ্চে মাত্র ৪৫ জন যাত্রী বিছানা পেতে বসে ছিলেন। ওই যাত্রীদের মধ্যে ৯ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। ৯ জন যাত্রীর মধ্যে ৬ জনই রোগী।

এছাড়াও ওই লঞ্চে ৯৭টি কেবিনের কোন যাত্রী আসেনি। ৩৫টি কেবিন বুকিং হয়েছে। ওই যাত্রী আসা নিয়ে সংশয় রয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

আমতলী লঞ্চঘাটের টোল আদায়কারী মো. হানিফ গাজী জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে প্রতিদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত দেড় থেকে দুই শতাধিক যাত্রী ঘাটে টোল দিয়ে লঞ্চে উঠে বিছানা পেতে বসে থাকতো। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার প্রথম দিনে লঞ্চে যাত্রী নেই। মাত্র ৪৫ জন যাত্রী টোল দিয়েছেন।

আবু জাফর নামে এক লঞ্চ যাত্রী বলেন, লঞ্চে করে ঢাকা পৌঁছতে ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা সময় লাগে। আর সড়ক পথে বাসে যেতে সময় লাগে মাত্র ৬ ঘন্টা। মেয়ে অসুস্থ তাই লঞ্চে ঢাকায় যাচ্ছি। নইলে এতো সময় ব্যয় করে লঞ্চে যেতাম না।

আরেক যাত্রী বাচ্চু হাওলাদার বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়ক পথে নদী পথের অর্ধেকেরও কম সময় লাগে ঢাকায় যেতে। তবে পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছি বিধায় লঞ্চে করেই যেতে হচ্ছে। নইলে এখন লঞ্চে ঢাকা যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

লাকি বেগম নামে এক নারী যাত্রী বলেন, বাসে উঠলে অসুস্থ হয়ে যাই। তাই লঞ্চে ঢাকা যাচ্ছি।

এমভি তরঙ্গ ৭ লঞ্চের টিকেট মাষ্টার জসিম উদ্দিন বলেন, লঞ্চে ৯৭টি কেবিন আছে। তার মধ্যে ৩৫টি কেবিন বুকিং হয়েছে। তাও যাত্রী আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ওই লঞ্চের সুপারভাইজার হুমায়ুন কবির বলেন, চারদিন লঞ্চ বন্ধ ছিল বিধায় যাত্রী কম। পদ্মা সেতুর প্রভাব নদী পথে পরবে কিনা তা এখনো বলা যাবে না। কিছুদিন গেলে বুঝতে পারবো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।