ঢাকাশনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৩৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশু আইন সম্পর্কে জানা আছে কি সবার?

মো. হাসিবুর রহমান (হাসিব) মুন্সী
মার্চ ৩১, ২০২২ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 302 বার
Link Copied!

শিশুর মেধা বিকাশ নিশ্চিত করা এবং শিশুর কল্যাণ, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হয়েছে শিশু আইন ২০১৩। (১৯৭৪ সালের শিশু আইন রহিত করে প্রণীত হয়েছে শিশু আইন -২০১৩)।

আইনের প্রাধান্য :

এ ক্ষেত্রে অত্র আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে যে ‘বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।’

শিশু হওয়ার যোগ্যতা :

অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠারো) বছর পর্যন্ত ব্যক্তি শিশু হিসেবে গণ্য হবে (অন্য আইনে যা হয়ে থাকুক না কেন) ধারা -৪ মতে।

শিশুদের বিচার কোন আদালতে হবে…?

অত্র আইনের ধারা -১৮ এ পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে কোন অপরাধের বিচার শিশু আদালত করবে যদি সেই ব্যাক্তি শিশু হয়।

অত্র আইনের ধারা- (১৯) এ শিশু আদালতের পরিবেশ ও সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

বিচারকালীন শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখতে হবে ধারা -(২৮) মতে।

অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা -(৩৩) যেখানে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন ‘কোন শিশুকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কারাদণ্ড প্রদান করা যাবে না।’

বিচারের ফলাফল এবং মুক্তি:

ধারা-(৪০) -বিচার প্রক্রিয়া সমাপ্ত হইবার ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে শিশু, শিশুর পিতা- মাতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধায়নকারী অভিভাবক বা আইনানুগ বৈধ প্রতিনিধি, শিশুর আইনজীবী ও প্রবেশন কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে।

আপিল :

ধারা-৪১ (১) মতে, ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের অধিন শিশু আদালত কর্তিক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। ধারা-৪১(২) রিভিশন করার সুযোগ থাকবে।

ফৌজদারী কার্যবিধির ব্যাবহার :

ধারা-৪২ মতে, যে ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন প্রনীত বিধিতে সুস্পষ্ট কোন বিধান না থাকে সেক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধি যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য ও অনুসরন করতে হবে।

গ্রেফতার :

ধারা-(৪৪) অনুসারে, নয় বছরের কম বয়সের শিশু কোন অবস্থায়ই এই আইনের অধীন গ্রেফতার করা যাবে না। (শিশু গ্রেফতার করা হলে তাকে হাতকড়া বা কোমরে বেরী পরানো যাবে না।

জামিন:

ধারা -(৫২) অনুসারে শিশুর জামিনকে সহজ করা হয়েছে।

শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতায় দন্ড:

ধারা-(৭০) এ বলা হয়েছে, কোন ব্যাক্তি যদি তার হেফাজতে, দায়িত্বে বা তত্তাবধানে থাকাকালে কোন শিশুর প্রতি আঘাত, অবহেলা, উৎপীড়ন করে এবং শিশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি বা কোন অঙ্গের ক্ষতি হয় তা হলে উক্ত ব্যক্তির ৫ বছর জেল বা ১ লক্ষ টাকা জরিমানায় দন্ডিত হইবে।

ধারা -(৯০)অনুযায়ী, শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী সহিংসতায় সবচেয়ে অরক্ষিত সুবিধাবঞ্চিত শিশু আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার খবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে।

শিশু আদালত :

আইনের সহিত সংঘাত জড়িত শিশু কর্তৃক সংঘটিত যে কোনো অপরাধের বিচার করিবার জন্য প্রত্যেক জেলা সদরে শিশু-আদালত নামে এক বা একাধিক আদালত থাকবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় উক্তরূপ কোনো ট্রাইব্যুনাল না থাকলে উক্ত জেলার জেলা ও দায়রা জজ স্বীয় অধিক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শিশু-আদালত হিসাবে গণ্য হবে।

মো. হাসিবুর রহমান (হাসিব) মুন্সী
এল এল বি (অনার্স) এল এল এম
অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, বরগুনা

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।