ঢাকারবিবার, ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৩৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হনুমানটিকে তড়িঘড়ি করে মাটিচাপা দেয় বন বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৩, ২০২২ ২:৩০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 28 বার
Link Copied!

বরগুনার লোকালয়ে প্রায় এক বছর ঘুরছিল একটি দলছুট মুখপোড়া হনুমান। কেউকে হাসিয়েছে, খুশি হয়ে কেউ খাবার খাইয়েছে, আবার কেউ করেছে নিষ্ঠুর আচরণ। অবশেষে মারাই গেল হনুমানটি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদের সামনে প্রথমবার দেখা যায় হনুমানটিকে। তাকে দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় করত, নানা প্রকার খাবার দিত। এরপর কমবেশি ২৬২ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানেই ঘুরে বেড়িয়েছে হনুমানটি।

সোমবার (২০ জুন) দুপুরে বরগুনা সদরের গৌরীচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা এলাকা থেকে হনুমানটিকে মৃত উদ্ধার করে বন বিভাগ। এরপর বরগুনা বন বিভাগ কার্যালয়ে নিয়ে হনুমানটির ২ ফুট ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ, ২ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ এবং ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি লেজের মাপ রেখে মাটি চাপা দেয়া হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রাণী ও প্রকৃতি প্রেমিরা। তাদের দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করেও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় হনুমানটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে ময়নাতদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে মাটি চাপা দেওয়ায় মৃত্যু নিয়ে বেঁধেছে বিপত্তি, সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়।

বন বিভাগ বলছে, আম খেতে লাকুরতলার একটি বিল্ডিং থেকে গাছে লাফ দিতে গিয়ে পাশে থাকা পল্লী বিদ্যৎ এর তারে স্পৃষ্ট হয়ে হনুমানটির মৃত্যু হয়েছে। এমন খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হনুমানটিকে মৃত উদ্ধার করে বন বিভাগে নিয়ে এসে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।

বরগুনা বন বিভাগের রেঞ্জ সহকারী মো. নুরুল আমিন বলেন, আমরা এতোকিছু ভাবিনি। স্থানীয় কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা বলে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে মাটি চাপা দেয়া হয়। তবে হনুমানটির সামনের দিকের বাম পায়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের রশি বাঁধা ছিল। যা সন্দেহজনক হলেও এর কারন জানা যায়নি।

বরগুনার সহকারী বন সংরক্ষক মো. আল মামুন বলেন, আমি জেলার বাইরে ছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করে মাটি চাপা দিয়ে দিতে বলেছি।

সেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ ন্যাচার সেভ অ্যানিমেল এর কার্যকরী সদস্য সাগর কর্মকার বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হলেও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় হনুমানটির অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে মাটি চাপা দিলেই দায় এড়ানো যায় না।

বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের প্রানী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক খালেদা জান্নাতি জানান, দল থেকে তাড়িয়ে দিলে কিংবা অভিমান করে মুখপোড়া হনুমান দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসতে পারে। আবার পথ ভুলে কিংবা খাদ্য সংকটের কারনে খাবার সংগ্রহের জন্যও আসতে পারে। তবে এদের কেউ বিরক্ত না করলে এরাও কারো কোন ক্ষতি করেনা।

প্রানী সম্পদ বিভাগের বরগুনা জেলা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, যদিও হনুমানটির বিষয় আমাদের আওতাধীন নয়। তবে হনুমানটি নিয়ে এলে আমরা পরিক্ষা নিরিক্ষা করে এর সঠিক মৃত্যুর কারন জানার চেষ্টা করতে পারি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।