ঢাকাশনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৫০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিন্ডিকেট করে ট্রাকে দ্বিগুণ ভাড়া, তরমুজ নিয়ে দিশেহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৯, ২০২২ ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
পঠিত: 165 বার
Link Copied!

বরগুনায় সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ বেড়েছে ট্রাকে ভাড়া। তরমুজ কিনতে আসা পাইকাররা দাবি করছেন, পরিবহন এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট করে দেড়গুনেরও বেশী ভাড়া বাড়িয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়ায় তরমুজ পরিবহন করতে হচ্ছে পাইকারদের। তবে পরিবহন এজেন্সিগুলোর দাবি, সংঙ্কটের কারণে চাহিদার জোগান দিতে গিয়ে বাড়তি ভাড়ায় অন্য জেলা থেকে ট্রাক আনতে গিয়ে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে।

আন্তঃজেলা ট্রাক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, বরগুনা জেলায় তিনশরও বেশী ট্রাক রয়েছে। ২১ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির আওতায় এসব ট্রাক চলাচল করে। এর মধ্যে পঞ্চায়েত, জিহাদ, দক্ষিণ বাংলা, পায়রা, রাহাত, আয়ান ও সততা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নিয়মিত ট্রাক ভাড়া দেয়া কাজ করে। তরমুজের মৌসুমে ট্রাকে তরমুজ পরিবহনের জন্য পাইকাররা স্থানীয় এসব এজেন্সির মাধ্যমে ট্রাক ভাড়া করে।

তেরমুজের পাইকাররা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাকে ভাড়া গড়ে ২০ হাজার টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ, বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের তরমুজের ক্ষেত সংলগ্ন সড়ক থেকে ঢাকা পর্যন্ত এক সপ্তাহ আগে রাজধানীতে ৩০ হাজার টাকা ভাড়ায় তরমুজ পরিবহন করা হত। এখন একই স্থানে ভাড়া বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

বরগুনার এম স্থানীয় তরমুজের পাইকার বরগুনার আমতলী-নিমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. বাকের মিয়া বলেন, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট করে ট্রাকের সঙ্কট দেখিয়ে দেড়গুনেরও বেশী ভাড়া আদায় করছে।
আমি প্রায় ১০ লাখ টাকার তরমুজ খেত কিনেছি। এর আগের ভাড়া অনুসারে তরমুজ কিনেছিলাম, এখন ট্রাকের ভাড়া দেড়গুনেরও বেশী বাড়ানো হয়েছে। এত বেশী ভাড়ায় ট্রাক নিতে হলে আমি বড় লসে পড়ে যাবো।

ভোলা থেকে মো. সাইদুল ইসলাম বরগুনার এম বালিয়াতলী এলাকায় তরমুজ কিনেছেন। এসব তরমুজ তিনি চট্টগ্রাম নিয়ে বিক্রি করবেন। সাইদুল বলেন, আমি এর আগে ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার টাকা ভাড়ায় ট্রাকে তরমুজ পাঠিয়েছি। সেই একই স্থানে ৬৭ হাজার টাকা ভাড়া চায় এজেন্সি। একাধিক এজেন্সিতে যোগাযোগ করেছি। সবাই একইরকম ভাড়া হাঁকাচ্ছে। একই অভিযোগ নওগাঁর পাইকার মো. ফারুক মিয়া, নলছিটির কবির মিয়ার।

পঞ্চায়েত ট্রেডার্স নামে একটি পরিবহন এজেন্সির পরিচালক মো. সোহেল মিয়া বলেন, সপ্তাহ খানে আমরা ঢাকায় ২৫ হাজার, চট্টগ্রামে ৩২ হাজার ফেনিতে ২৮ হাজার নোয়াখালীতে ১৮ হাজার টাকায় তরমুজ পরিবহন করতাম। আমাদের জেলার সব ট্রাক এখন ট্রান্সপোর্টে আছে। এদিকে তরমুজ খেত থেকে কাটা শুরু করায় ট্রাকের চাহিদা বেড়েছে। ট্রাক পাওয়া যাচ্ছেনা। এ কারণেই ভাড়া বেড়েছে।

বরগুনা আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক- শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল আলম জন বলেন, তরমুজের মৌসুম শুরু হওয়ার পর এখন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাকগুলো জিম্মি করে বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের আবুল হোসেন, মো. শাহ আলম ও মো. জুলহাসসহ আরো কয়েকজন আশপাশের জেলা থেকে ট্রাক ভাড়া এনে বরগুনা নতুন বাসস্টান্ড সংলগ্ন মহাসড়কে রেখেছেন। ট্রাকের চাহিদা বেশী থাকায় পাইকারদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিশ্চিত করে তারপরই এসব ট্রাক ভাড়া দিচ্ছেন তারা। এই চক্রের বাইরে কোনো ট্রাক তরমুজ পরিবহন করলে তারা সড়কে ট্রাক থামিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এজেন্সির নামে পাইকারদের কাছ থেকে আদায় করে ছেড়ে দেয়।

যোগাযোগ করা হলে শুভ্র ট্রান্সটেপার্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আবুল হোসেন বলেন, আসলে ট্রাকের সঙ্কট থাকায় আমরা দূরের জেলা থেকে খালি ট্রাক নিয়ে এসেছি পাইকারদের সুবিধার্থে। দূর থেকে খালি ট্রাক আসার একটা খরচা দিতে হয়। ঈদের মৌসুমে ট্রাক পাওয়া যায়না। সব মিলিয়ে ভাড়া একটু বেড়েছে। এখানে আমাদের এজেন্সির খরচা বাবদ ১ হাজার টাকার বেশি আমরা কিছুই নেইনা। একই বক্তব্য জুলহাস মিয়া ও মো. শাহ আলমেরও।

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে জেনে দেখব। যদি এজেন্সির নামে বেশি ভাড়া আদায় করা হয় তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।