ঢাকাশনিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:১৪

রাতেও উড়ছে জাতীয় পতাকা, প্রধান শিক্ষকের তদবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৮, ২০২২ ১:২২ অপরাহ্ণ
পঠিত: 360 বার
Link Copied!

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৫৬নং মানিকখালী ছোনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।

সরকারি নিয়ম অনুসারে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও নিয়ম ভঙ্গ করতে দেখা গেছে ৫৬নং মানিকখালী ছোনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।

মাঝ রাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ওড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের রাতে।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয়  গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নিয়ে তদবির শুরু করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জামাল আহমেদ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এই বিদ্যালয়ে প্রায় সময় জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। কোনো কোনো সময় রাত ৭/৮ টার সময় দেখা যায় পতাকা নামাতে। আবার কখনো সারা রাতই উড়তে থাকে। গভীর রাতেও এখানে পতাকা উড়ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ পতাকা নামানোর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একুশে ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল না দেয়ারও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহবায়ক হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, জাতীয় পতাকা প্রতিটি রাষ্ট্র ও জাতির স্বকীয়তা এবং স্বাধীন-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নিদর্শন লাল-সবুজের পতাকা। এই পতাকার সম্মান রক্ষা আমাদের সব নাগরিকের কর্তব্য। এ ব্যাপারে উদাসীনতা কাম্য নয়।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মোতালেব মৃধা বলেন, জাতীয় পতাকা অবমাননা করার অর্থ হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা, স্বাধীন বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। এ পতাকার অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও জাতীয় পতাকা অসম্মান ও অবমাননার কথা শুনলেও ইদানীং তা বেশি শোনা যায়। কারণ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আগামীতে জাতীয় পতাকা অবমাননা করার কেউ সাহস পাবে না।

মানিকখালী ছোনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল আহমেদ বলেন, জাতীয় পতাকা অবমাননা হয়েছে সত্য। এটা নিয়ে নিউজ কইরেন না। আর নিউজ করলে কিছু হয় না, তার থেকে আপনারা মিষ্টি খাওয়ার খরচ নিয়ে যান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম এম মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টা সম্পর্কে আমি অবগত না। জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং নামানোর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, যদি কেউ সময় ব্যতীত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অবশ্যই এটি অপরাধ। আমি আমার অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।