ঢাকামঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:২৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছাত্রীদের পোস্টম্যানের যৌনাঙ্গ প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি
আগস্ট ২, ২০২২ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 258 বার
Link Copied!

বরগুনা সদর উপজেলার একটি স্কুলে ছাত্রীদের যৌন হয়রাণির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আফাজ ঘরামী কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন বাসিন্দা ও আয়লা এলাকার পোস্টম্যান।

স্কুলছাত্রীরা এমন অভিযোগ আনার পর আজ সোমবার (১ আগস্ট) সকালে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে আফাজ ও সহযোগীরা বাধা দিয়ে ব্যানর কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে বলেও অভিযোগ স্কুল শিক্ষার্থীদের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।

বিদ্যালয়ের আষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাহারা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় ভবনের দক্ষিন প্রান্তের নিরাপত্তা দেয়াল লাগোয়া আয়লা ডাকঘরের পোস্টম্যানের বাসা। বুধবার মধ্যহ্ন বিরতিতে কয়েকজন ছাত্রী বিদ্যালয় ভবনের দোতালার দক্ষিণ পাশে দাড়ানো ছিল। এসময় আফাজ ঘরামী সেখানে উপস্থিত হয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করতে থাকে। এক পর্যায়ে কাপড় তুলে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করে। লজ্জায় ছাত্রীরা ওই স্থান ত্যাগ করে এবং বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানায়।

তিনি আরো বলেন, এঘটনার পরের দিন বৃহষ্পতিবার সকালে যৌন হয়রাণীর শিকার ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এসময় প্রধান শিক্ষক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু দুই দিনেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র বায়েজিদ হোসেন জানান, মানবন্ধন চলাকালীন সময় আফাজ ঘরামী ও স্বজনরা সেখানে উপস্থিত হন এবং ব্যানার কেড়ে নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এতে স্কুল শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে মিছিল নিয়ে রাস্তায় বের হয়। পরে পুলিশ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবক সদস্যরা বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, আমরা লেইজারের সময় ক্লাস থেকে বের হয়ে দক্ষিণ পাশের সহপাঠিরা আড্ডা দেই। ওই লোকটি প্রায় প্রতিদিনই লেইজারের সময় সেখানে আসে এবং আমাদেরকে নানা ধরণের অশ্লিল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শণ করে। তার এমন আচরণে আমরা অতিষ্ঠ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীমান চন্দ্র রায় বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি বিষয়টি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে আলোচনা ও এ নিয়ে বৈঠক করেছি। সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীরা কিছুতেই যাতে এভাবে হয়রাণির শিকার না হয় সে ব্যপারে আমরা পদক্ষেপ নেব।

তিনি আরো বলেন, মানবন্ধনের সময় কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় আমি পুলিশ খবর দিয়েছি এবং বিদ্যালয় ছুটি দিয়েছি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানানোর পর আমরা বৈঠক করেছি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা রেজুলেশন করে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাঠিয়ে দেব। তিনি পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।