ঢাকামঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উপকূলে উৎসবের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২১, ২০২২ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
পঠিত: 130 বার
Link Copied!

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেন দম ফেরানোর সুযোগ নেই। জেলে পল্লীগুলোতে উৎসবের আমেজে সমুদ্রযাত্রার পস্তুতি চলছে।

বঙ্গোপসাগরে বিচরণরত সব ধরনের মাছ সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজননের জন্য সরকারের দেয়া ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার বাকি আর এক দিন। শনিবার (২৩ জুলাই) রাত ১২টার পর পরই মাছ ধরতে ফের সাগরে যাবেন জেলেরা।

এরই মধ্যে অনেকেই এখন বরফ নেওয়ার জন্য ট্রলার নিয়ে খালে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ ট্রলার মেরামত শেষে করছেন রঙয়ের কাজ। কেউ বুনছেন জাল। আবার কেউ কেউ শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ট্রলারে উঠাচ্ছেন জাল। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় সবমিলিয়ে মহাখুশি তারা।

সংশ্লিষ্ট জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন উপকূলে পড়েছিল মাছ ধরার ট্রলারগুলো। ফলে অনেক ট্রলারে পড়ে যায় মরিচা। তবে এবার সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তারা।

বরগুনার বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে দেখা যায়, অধিকাংশ ট্রলার মেরামত শেষে খালে অবস্থান করছে। অনেক ট্রলারে জেলেরা বাজার সদয়ের কাজে ব্যস্ত। কেউ কেউ ব্যস্ত ট্রলারে জাল, রশি ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তোলার কাজে।

জেলেরা জানান, আগেই ট্রলারগুলো রঙ করে ও ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তাদের আশা, গত মৌসুমের মতো এবারো ধরা পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে বড় বড় রূপালি ইলিশ। তা বিক্রি করে পরিবারে ফিরবে স্বাচ্ছন্দ্য। এমন স্বপ্ন নিয়ে সাগর যাত্রার অপেক্ষায় আছেন হাজার হাজার জেলে।

পাথরঘাটার জেলে সেলিম মিয়া বলেন, ট্রলার মেরামতের কাজ শেষ। এখন বাজার সদয় করব।

আরেক জেলে ইউসুফ বলেন, আশা করছি এবার ভালো মাছ পাব। পরিবারের অভাব দূর হবে।

অপরদিকে জেলে জহির বলেন, ট্রলারের মেরামত শেষে। এখন রঙয়ের কাজ বাকি। ২২ তারিখ ট্রলার খালে নামাব। ওইদিন বাজার সদয়ও শেষ করব।

ট্রলার মালিক সালাম বলেন, আমার সবগুলো ট্রলার মাছ ধরার জন্য সাগরে যেতে প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এ কারণে সাগরে মাছ বাড়বে। আশা করছি জেলেরা এখন বেশি মাছ নিয়ে ফিরবেন।

তবে বেশ কয়েকজন ট্রলার মালিক আক্ষেপ করে বলেন, কষ্ট করে নিষেধাজ্ঞার সব নিয়ম আমরা পালন করেছি। অথচ অনেকেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সাগরে গিয়ে মাছ ধরেছে।

হরিণঘাটা এলাকার নুরুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন আমার ট্রলার স্থলে পড়ে থাকায় ভাঙন ধরেছে। সেসবের মেরামত শেষ করেছি। এখন সাগরে যাওয়ার অপেক্ষা।

বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া বলেন, ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাগরে যেতে পারেনি জেলেরা। অনেকে কোরবানিও দিতে পারেনি। পরিবার নিয়ে চলতে ফিরতে কষ্ট হয়েছে।

জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ৬৫ দিনের সরকারি নির্দেশনা মেনে কোনো ট্রলার সাগরে যেতে পারেনি। এখন ২৩ জুলাইয়ের অপেক্ষায় আছে সবাই।

সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় প্রতিবারের মতো এ বছরও গত ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সরকার।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।