ঢাকামঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৩৬

‘আমাদের ঈদ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৯, ২০২২ ২:৩০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 188 বার
Link Copied!

‘গতবছরও আমাদের ঈদ ছিল। এখন আর আমাদের ঈদ নেই। অভিযান ১০ লঞ্চ আমাদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। বাবাকে ছাড়া কি করে ঈদ করি। তার কবরটা সনাক্ত করতে পারলেও বাবাকে হারানোর কষ্ট কিছুটা কমত।’

বরগুনার পোটকাখালী গনকবরে বাবা আবদুল হামিদ হাওলাদারের স্মরণে দোয়া মোনাজাত শেষে কথাগুলো বলছিলেন মো. দুলাল হাওলাদার।

ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চ গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ঝালকাঠির সুগন্ধ্যা নদীতে পৌঁছালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নিখোঁজ হন আরও অনেকে।

সেই দুর্ঘটনার সাত মাস পর এসেছে ঈদ। তবে খুশির পরিবর্তে কষ্ট তাড়া করছে স্বজন হারাদের।

লঞ্চ দুর্ঘটনায় স্বজন হারাদের একজন বামনা উপজেলার গোলাঘাটা গ্রামের দুলাল। এ দুর্ঘটনায় বাবা আবদুল হামিদ হাওলাদারকে হারিয়েছেন তিনি।

দুলাল জানান, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর তার বাবাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যান তার মা ও বোন। চিকিৎসা শেষে ২৩ ডিসেম্বর অভিযান-১০ লঞ্চে বরগুনার উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন তারা। রাতে ওই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার মা ও বোন অগ্নিদগ্ধ হন। আর বাবা আবদুল হামিদ হাওলাদার (৬০) এখনো নিখোঁজ।

কান্না জড়িত কন্ঠে দুলাল বলেন, ‘অজ্ঞাত কবরের মধ্যে হয়তো আমার বাবাও রয়েছেন। আমরা ডিএনএ নমুনা দিয়েছি। এখন শুধুমাত্র বাবার কবরটা বুঝে পাওয়ার আশায় আছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে আমাদের পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। বাবার ঋন ছিল, তা পরিশোধ করার সমর্থ আমার নেই। যা ছিল অগ্নিদগ্ধ মা-বোনকে চিকিৎসা করাতে শেষ হয়ে গেছে।’

দুলাল ছাড়াও গনকবরে আসছেন সুগন্ধা ট্রাজেডির অনেক স্বজনহারা। অজ্ঞাতদের কবরের পাশে করছেন আহাজারি।

বরগুনা জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সুগন্ধ্যা ট্র্যাজেডিতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪১ জনের লাশ উদ্ধার হয় ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জন মারা যান। জানুয়ারির ২ ও ৩ তারিখে ঢাকায় চিকিৎসাধীন দগ্ধ দুজন ও সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রয়ারির শুরুতে এক নারী ও তার স্বামী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন মারা যান।

নিহতদের মধ্যে শনাক্ত না হওয়ায় ২৩ জনকে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী এলাকায় গনকবরে ও একজনকে ঝালকাঠিসহ ২৪ জনকে দাফন করে জেলা প্রশাসন। বাকি ২৬ জনের মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যান স্বজনরা।

ঘটনার পর বরগুনা জেলা প্রশাসন নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ৩২ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ নিখোঁজ ৩২ জনের বিপরীতে তাদের ৫১ জন স্বজনের ডিএনের নমুনা সংগ্রহ করে। গত ১৯ এপ্রিল সেই ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট প্রকাশ হলেও দাফতরিক ভাবে তা পায়নি জেলা প্রশাসন।

বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শুভ্রা দাস বলেন, শনাক্ত হওয়া মৃতদের স্বজনদের আমরা প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার করে টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। অজ্ঞাতদের সনাক্ত করতে ডিএনত্র নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার কোন প্রতিবেদন আমরা দাফতরিক ভাবে পাইনি। এবিষয়ে আদালতের নির্দেশনা পেলে স্বজনরা যদি দাবি করে থাকে লাশ আমরা হস্তান্তর করতে পারব।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।