ঢাকামঙ্গলবার, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:১৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ম্যানেজ করে’ মাছ শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৬, ২০২২ ১০:২০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 144 বার
Link Copied!

দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। ২০ মে থেকে এ নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। শেষ হবে চলতি মাসের ২৩ জুলাই। তবে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে গভীর সাগরে মাছ শিকার করছে অসাধু জেলেরা।

জেলেদের দাবি, নৌ পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের সোর্সদের কাছে টাকা দিয়ে তাদের ম্যানেজ করেই গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন জেলেরা। তবে এ বিষয়টি অস্বীকার করেছে নৌ-পুলিশ। আর এমন কোন প্রমাণ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে কোষ্টগার্ড।

নিষেধাজ্ঞা ভেঙে সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলেন পাথরঘাটার জেলে সোহরাব মাঝি ও কবির হোসেন। তারা যোগ করেন, গভীর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় দেশীয় ট্রলারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভারতীয় ট্রলার মাছ শিকার করছে।

সোহরাব মাঝি বলেন, আমরা আমাদের সীমানায় জাল ফেলে মাছের জন্য অপেক্ষা করলে ভারতীয়রা আমাদের তাড়িয়ে দেয়। তারা বলে, তোদের দেশে অবরোধ তোরা মাছ শিকার কর কেন?

কবির হোসেন বলেন, আমাদের জলসীমায় আমাদেরকেই মাছ ধরতে দেয়না ভারতীয় জেলেরা। তবে অবরোধ দিয়ে লাভ কি? এমন প্রশ্ন স্থানীয় অন্যান্য জেলেদেরও।

তবে গভীর বঙ্গোপসাগরে কোস্টগার্ডের নিয়মিত পেট্রোল টহল চলছে বলে জানিয়েছেন কোষ্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কে এম শফিউল কিঞ্জল।
তিনি জানান, যদি কোষ্টগার্ডের কাউকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকারে যায় তার প্রমান পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করে বিক্রির উদ্দেশ্য ঘাটে আসতেই মৎস্য বিভাগের অভিযানের আটকা পড়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। সাথে নিলামে বিক্রি হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ। সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, জুনের শেষ দিকে পরপর ৩দিন পাথরঘাটা মৎস্য বিভাগের অভিযানে ৭টি ট্রলার থেকে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অপরদিকে, জেলে এবং মৎস্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন আগে মংলায় নৌ-বাহিনীর অভিযানে ১৩৫ ভারতীয় জেলে আটক হয়েছে। কিন্তু পাথরঘাটার কোস্টগার্ড নদীতে টহল না দিয়ে স্থলে অভিযান চালায়। আর তাদের সোর্সদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে অসাধু জেলেরা নির্ভয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করে।

জেলেদের অভিযোগের সত্যতা মেলে পাথরঘাটা মৎস্য ঘাট এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো না দেখে। খোঁজ নিলে জানা যায়, এসব ট্রলার মাছ শিকার করে গভীর রাতে ঘাটে ফিরে মাছ বিক্রি করে আবার সমুদ্রে চলে যায়।

চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইশান জানান, নৌ-পুলিশ, কোষ্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে আটক হয়ে জেলেরা নিজেদের বাঁচাতে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

পাথরঘাটা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার দায়ে থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় রাতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জুনের শেষ দিকে ৩দিনে আটক ৭টি ট্রলারের মাছ নিলামে বিক্রি করে সমপরিমান অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মৎস্য আইনের সংশোধনে ২০১৫ সালের ১৯ ধারায় প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরার জলযানে মাছ শিকার বন্ধের আইন করা হয়। এ আইনের আওতায় গত ৩ বছর ধরে উপকূলের ইঞ্চিন চালিত কাঠের ট্রলার গুলোকেও আনা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ (আইন) অধিশাখা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটিতে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরের মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।