ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৩২

ভাড়া বাসায় আইন শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ, মাথায় ক্ষত-পা রক্তাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৫, ২০২২ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 791 বার
Link Copied!

বরগুনায় ভাড়া বাসা থেকে জহিরুল ইসলাম (২৬) নামে এক আইন শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জুন) সকালে বরগুনা পৌরশহরের কাঠপট্টি এলাকায় এঘটনা ঘটে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জহিরুলের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগরপুরে। তার বাবা মৃত আবদুল লতিফ সিকদার পুলিশে চাকরি করতেন। দীর্ঘ বছর তিনি বরগুনায় কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবার চাকুরির সুবাদে বরগুনা থেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন জহিরুল। পরে ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিউবিটি) তে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং পাশাপাশি পার্টটাইম চাকুরি শুরু করেন। তবে গত কয়েকমাস আগে পুনরায় বরগুনায় ফিরে ব্যবসা শুরু করেন জহিরুল। সেই সুবাদে বরগুনার কাঠপট্টি এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। শুক্রবার (৩ জুন) ওই এলাকায় নতুন একটি মুদি দোকানেরও উদ্বোধন করেন জহিরুল।

জহিরুলের বন্ধুরা জানান, জহিরুলের সঙ্গে বাড়ির মালিক আবদুর রব লিচু মাস্টারের ছেলে মিথাসের বন্ধুত্ব ছিলো। তারা একত্রে পড়াশুনা করতো। যে কারনে মিথাসের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে একা বসবাস করতেন জহিরুল।

এদিকে, আবদুল রব মাস্টারের বাড়ির লোকজন জানান, জহিরুলের সঙ্গে তার মামাতো বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাদের দাবি, গতরাতে মামাতো বোনের সঙ্গে ঝগড়া করে বিছানার চাদরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জহিরুল।

তবে, জহিরুলের পা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লাগানো থাকায় তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। অনেকেরই ধারনা জহিরুলকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। একই দাবি জহিরুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলামের।

রফিকুল ইসলাম বলেন, জহিরুল বরগুনায় বন্ধুর বাসায় একা ভাড়া থাকতো। ব্যবসা করার জন্য চার লাখ টাকা নিয়ে বরগুনায় আসে। দোকানের জন্য অগ্রিম ২০ হাজার টাকা দিয়েছে এবং অল্প কিছু টাকার মালামাল কিনেছে। বাকি টাকার হিসেব পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে তা নিয়ে আত্মহত্যা করার মতো অবস্থা হতে পারে না। মরদেহ উদ্ধার করার পর ওর হাত ও পায়ের অবস্থা দেখে মনে হয় কোন চেয়ারে বসা অবস্থায় মারা গেছে। মাথায় ক্ষত, পা রক্তাক্ত। বিষয়টির সঠিক ভাবে তদন্তের দাবি জানাই।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ জানান, নিহত জহিরুলের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তার গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।