ঢাকাশনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৩৪

বামনায় অহরহ বাড়ছে চুরি-ডাকাতি, প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

মাসুদ রেজা ফয়সাল
জুন ১৬, ২০২২ ৬:৪০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 212 বার
Link Copied!

বরগুনার বামনায় গত কয়েক মাস ধরে আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা। ভুক্তভোগী পরিবার ডাকাতদের চিহ্নিত করে থানায় জানালেও এসব ডাকাতদের গ্রেফতারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর অভিযোগ পুলিশ প্রশাসন ডাকাতির ঘটনাকে চুরি উল্লেখ করে মামলা গ্রহন করেন। ফলে চিহ্নিত ডাকাতদের গ্রেফতার করা হলেও তারা সহজেই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় তাদের পেশায় ফিরেছেন।

সম্প্রতি বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্ততো ৮-১০ ডাকাতি সংঘটিত হয়। এর মধ্যে গত ২৫ মে রাতে উপজেলার খোলপটুয়া বাজারের জুয়েলারী ব্যবসায়ি জীবন কৃষ্ণ শীলের দোকানে ডাকাতি সংগঠিত হয়।

এসময় ডাকাতরা দোকানে থাকা ২১ ভরি স্বর্ন, ৬০ ভরি রুপা, নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ প্রায় ২০ লক্ষাধীক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এঘটনায় বামনা থানায় জীবনকৃষ্ণ শীল ডাকাতির মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ সে মামলা গ্রহন করেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুধু খোলপটুয়ায় নয় গত ১৭ জানুয়ারী বামনা উপজেলা শহরের ঔষধ ব্যবসায়ি গৌরাঙ্গ কর্মকারের বাসায় চুরি সংগঠিত হয়।

এছারাও সম্প্রতি বামনা ডিগ্রি কলেজ প্রভাষক কালাম , মহিলা কলেজ প্রভাষক হাবিবুর রহমান, বামনা সরকারী সারওয়ারজান স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম, বামনা থানার সাবেক এস আই কামাল হোসেন এর বাসায় চুরি সংগঠিত হয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল বলইবুনিয়া গ্রামের কালামের বাড়ীতে ডাকাতি সংগঠিত হওয়ার সময় কালাম ডাকাদের চিনতে সক্ষম হন। এসময় ডাকাতরা তার ছেলে মো. শামীমকে কুপিয়ে জখম করেন।

আবুল কালাম অভিযোগ করে জানান, তিনি ডাকাত চিনতে পাওয়ার পরেও তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় বামনা থানায় মামলা নেয়নি।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, থানার কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা এসব ডাকাতদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তাই ডাকাতদের নাম বলার পরেও পুলিম তাদের গ্রেফতার করে না।

এদিকে গত ২৪ মার্চ উপজেলা সদরের কলেজ রোডে প্রভাষক হাবিবুর রহমানের বাসায় দিনে বেলা ডাকাতি সংগতি করার সময় এলাকাবাসী হাতে নাতে ধরে এক ছদ্দবেশী ডাকাতকে। তিনি বাক প্রতিবন্ধীর ছদ্দবেশ নিয়ে ভবনে প্রবেশ করে। পুলিশ তাকে বাক প্রতিবন্ধী ভেবে ছেরে দেওয়ার পায়তারা করেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের চাপে পুলিশ ওই ডাকাতের মুখ থেকে কথা বেড় করেন এবং তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা নিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। পরে সে জামিনে বেড় হয়ে যায়।

এই ছদ্দবেশী ডাকাতের নাম মো. মোস্তফা কামাল তার বাড়ি চাদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামে।
তিনি বামনা উপজেলার পূর্ব বলইবুনিয়া গ্রামের ডাকাত নামে পরিচিত মো. কাঞ্চন আলীর যাতায়াত করতেন বলে ওই এলাকাবাসীরা জানান।

গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনার সাথে পূর্ববলইবুনিয়া গ্রামের ডাকাত কাঞ্চনের সখ্যতার অভিযোগ এনে তাকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী।

আজ বৃহস্পতিবার(১৬ জুন) সকালে বামনা প্রেসক্লাবের সামনে প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, পূর্ববলইবুনিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. আবুল কালাম, বামনা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুর রহমান প্রমূখ।

এসময় বক্তারা অবিলম্বে কাঞ্চন ডাকাতকে গ্রেফতারের দাবী জানান।

এ ব্যাপারে বামনা থানার অফিসার আন চার্জ মো. বশিরুল আলম বলেন, পূর্ব বলইবুনিয়া গ্রামের আবুল কালামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পিবিআইতে তদন্তাধীন রয়েছে। এছারাও পুলিশ বিভিন্ন সময়ে ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।

বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, পূর্ব বলইবুনিয়া গ্রামের কাঞ্চন ডাকাতের কারনে বামনা বাসী অতিষ্ঠ। পুলিশ সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ পেলেও তাকে অজ্ঞাত কারনে গ্রেফতার করছে না। এছারাও ডাকাতি ও চুরির ঘটনায় পুলিশের তেমন কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখ পড়ছে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।