ঢাকামঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:০০

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের উত্তাপ, আতঙ্কে আমতলীর মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২ ৫:২৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 75 বার
Link Copied!

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত বরগুনার আমতলী উপজেলা। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে দুই গ্রুপ মারমুখি অবস্থান নেয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। সম্প্রতি উভয় গ্রুপ একের পর এক মামলা হামলায় জড়িয়ে পড়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হওয়ার পাশপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও অস্থিরতা বিরাজ করছে।

আমতলী পৌর শহরের আল হেলাল মোরের সাকিব প্লাজার সামনে গত ১৬ আগস্ট রাত আটটার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সবুজ মালাকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন শিহাব রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে পেছন থেকে এলোপাতারি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে চলে যায়।

দীর্ঘ ১৫ দিন যাবত ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা নিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন খান এলাকায় ফিরে অভিযোগ করেন, আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান ও তার ভাই ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর রহমানের অনিয়ন দূর্ণীতি নিয়ে কথা বলায় তাদের নির্দেশে ছাত্রলীগ ও দুই নেতা তার উপর হামলা চালিয়েছে।

এর আগে মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে পিটিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় প্রধান হামলাকারী সবুজ মালাকার, মেয়র মতিয়ার ও তার ভাই ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর সহ আটজনকে আসামী করে আদালতে মামলার আবেদন করেন মোয়াজ্জেমের ভাতিজা। আদালত মামলাটি আমতলী থানাকে এজাহারের আদেশ দেন।

এদিকে হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম হাসান গ্রুপ বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে মেয়র মতিয়ার রহমানের গ্রুপও মামলার প্রতিবাদ ও আসামীদের মুক্তির দাবিতে পাল্টা মিছিল শুরু করে। উভয় গ্রুপ মিছিল নিয়ে থানার সামনের দুই প্রান্তে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পুলিশি তৎপরতায় সংঘর্ষ এড়ানো গেলেও শহরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অপরদিকে ছাত্রলীগের দুই নেতা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতিকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগে সংগঠন এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান, আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুবুল ইসলাম।

আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী সামসুল হক, দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার ফকিরসহ মোয়াজ্জেম ও হাসান গ্রুপের সমর্থকদের দাবি, মতিয়ার রহমান ও তার ভাই মজিবর রহমান দলে অনুপ্রবেশকারী। তারা উপজেলা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে দলকে ধ্বংসের পায়তারায় লিপ্ত।

যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মেয়র মতিয়ার। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, মোয়াজ্জেম হোসেন খান, জিএম হাসান ও তার ভাই জিএম মুসা সহ তাদের গ্রুপের লোকেরা গত বছরের ২১ মে তার ভাগ্নে আবুল কালাম আজাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আজাদ এখনো পঙ্গুপ্রায় অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও তার ভাই ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যানের দাবি, জনপ্রিয়তায় ভীত ও দলকে সু-শৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় ইর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন।

আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, আমতলীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মারমুখি কর্মকান্ডে ভীত এখানকার সাধারণ মানুষ। উভয় গ্রুপকে নিয়ন্ত্রনে আনতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগের দুই গ্রপের মারমুখি আচরণে বিব্রত পুলিশ। মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস পুলিশের এ কর্মকর্তার।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।