ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫০

স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু একই বৃন্তের দুটি কুসুম

ফাইজুল ইসলাম
মার্চ ২৭, ২০২২ ১:০০ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 295 বার
Link Copied!

বিজয়ের আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ দ্বিতীয়টি আর হয় না। মুক্তি ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত স্তম্ভ হচ্ছে স্বাধীনতা। কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন,”

“আজকে আমি বলবো শুধু –
যুদ্ধ জয়ের কথা,
যার সুবাদে পেয়ে গেছি –
সাধের স্বাধীনতা। ”

আমাদের স্বাধীনতাকে সবচেয়ে রঙিন করেছেন মুক্তির মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তান শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা খুব দ্রুত স্বাধীনতা পাই নি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ আমাদের বিজয়ের তৃষ্ণাকে ব্যাকুল করেছে। ১৯৬৬ এর ৬ দফাই ছিল অবহেলিত বাঙালীর মুক্তির সনদ।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে মুসলিম লীগের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের সম্মেলন শুরু হয়। সাবজেক্ট কমিটির এই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। সে বছরের ১ মার্চ শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এসময় ছয় দফার পক্ষে জনমত গড়তে পূর্ববাংলা সফরে মাত্র দুই মাসের মাঝেই আটবার গ্রেফতার হতে হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে (জননেত্রী শেখ হাসিনা, ২০২০)।

১৯৬৮ সালের পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবকে ১ নম্বর আসামি করে দায়ের করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ততদিনে ছয় দফার প্রতি ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছিল। ১৯৬৮ এর শেষদিকে, ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নতুন আন্দোলন শুরু হয়। তার সাথে ছয় দফাকে অন্তর্ভুক্ত করে এগার দফা দাবিতে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। এরমাঝে ১৯৬৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার শেখ মুজিবসহ সকল আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

মূলত শেখ মুজিব ধুমকেতু,শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন।

৭০ এর নির্বাচনে এই আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করেন। তিনি ৭ ই মার্চের জনসভায় বলেছেন,

“আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই। ”

এই ৭ ই মার্চের ভাষণেই তিনি আমাদের স্বাধীনতার তৃষ্ণাকে বাড়িয়ে দেন।তিনি দ্যর্থকণ্ঠে বলেন,”এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” আবাল বৃদ্ধ বনিতার সেই মুজিব ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাঙালিদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর ও পূর্ব বাংলাকে নেতৃত্বশূন্য করতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনা হামলা শুরুর সাথে সাথেই স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন,”আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।”

পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ, দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোনো আপস নেই, জয় আমাদের হবেই। আমাদের পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু বিতাড়িত করুন। সব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমীক ও স্বাধীনতাপ্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আমাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।’

( সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড। তথ্য মন্ত্রণালয়, ১৯৮২ সাল)

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১.৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং এর তিন দিন পর তাকে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তানের করাচি নিয়ে যাওয়া হয়।পাকিস্তানের মিরনওয়ালী কারাগারে এক অন্ধকার কক্ষে যেখানে আলো বাতাস ছিল না এমন কক্ষে ছয় ফুট উচ্চতার পিতা মুজিবকে রাখা হয়।

এরপর পিতা মুজিবের নেতৃত্বে আপামর জনতা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে। শেখ মুজিব একটি ক্ষুধার্ত, শোষিত জাতিকে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছিলেন। বাঙালী তাকে ভুলবে কি করে?

১৯৭১ সালের ১০ই জানুয়ারি আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুজিবকে জেলে নেয়া যায়, আঘাত করা যায় তবু মুজিবকে থামিয়ে দেয়া যায় না।

শেখ মুজিবের তাত্ত্বিক গুরু সোহরাওয়ার্দী বলেছিলেন,

“This young man passionately a political figure, you can create pressure, san him from his dynasty but can’t stop him.His courage and patriotism make him unstoppable. ”

স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর হাতে সময় পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করা, শহীদ পরিবার, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোনদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, তাদের প্রতিষ্ঠিত করা- সব কাজই তিনি করেছিলেন এই সাড়ে তিন বছরে।

জাতির পিতা বলতেন ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়।’

আজ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে।সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। একটি স্বাধীন,সমৃদ্ধিশালী ও বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন পরাশক্তির নাম বাংলাদেশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।