ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:২৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃত্যুর আগে ওষুধের টাকাও ছিল না দুবারের সংসদ সদস্যের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-আরিফুল ইসলাম রুবেল
জানুয়ারি ১২, ২০২৩ ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
পঠিত: 14 বার
Link Copied!

দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য। ঢাকা শহরসহ গ্রামে ছিল বাড়ি ও জমিজমা। সংসদ সদস্য পদ হারিয়ে ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। এরপর ১০ বছরের ব্যবধানে অর্থসম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সরকারি আশ্রয়ণের ঘরে। জীবনের শেষ সময়ে নিজের ওষুধ কেনার টাকাও জুটত না তাঁর। মৃত্যুর পর জীবনের সব গ্লানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ-১০ আসনের (গফরগাঁও) জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক জজ মিয়া। দুই বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সরকারি আশ্রয়ণের ঘরে উঠে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার ভোরে গফরগাঁও উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে ওই আশ্রয়ণের ঘরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এলাকাবাসী ও মৃতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮১ সাল থেকে টানা ৯ বছর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন জজ মিয়া। সংসদ সদস্য পদ হারানোর পর নিজের পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করতেন তিনি। ঢাকায় তাঁর দুটি বাড়ি ছিল। ওই বাড়ি দুটি প্রথম পক্ষের দুই মেয়েকে লিখে দেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কে ভাটা পড়লে ২০ বছর আগে গফরগাঁওয়ে ফিরে আসেন। পৌর শহরে তাঁর নিজের একটি বাড়ি ছিল। ছিল পর্যাপ্ত জমি। একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে রুমা হক নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁদের একটি ছেলেসন্তান হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে তাঁর সব জমি শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে নিজের বাড়িটিও বিক্রি করে ভাড়াবাড়িতে ওঠেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। একপর্যায়ে সংসারের খরচ আর ওষুধের টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে স্ত্রীর নামে আশ্রয়ণের ঘর পেয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন জজ মিয়া।

আজ দুপুরে আশ্রয়ণের ওই ঘরে কথা হয় জজ মিয়ার স্ত্রী রুমার সঙ্গে। একসময়ের সংসদ সদস্য জজ মিয়ার জীবনের শেষ দুই বছরের অসহায়ত্বের কথা তিনি তুলে ধরেন। রুমা হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে সংসারের খরচ চালানোর জন্য তিনি নানা মানুষের কাছে ছুটে যেতেন। শেষ দিকে তাঁর আচরণ শিশুর মতো হয়ে গিয়েছিল। অনেক সময় এমনও হয়েছে, ঘরে খাবার নেই, কিন্তু খাবারের সময় তিনি মেঝেতে পাটি পেতে খেতে বসে পড়তেন।’

নিজের কান্না আড়াল করতে করতে রুমা বলেন, ‘অনেক সময় আশ্রয়ণের ঘরে থাকা দরিদ্র প্রতিবেশীদের কাছেও ধার করতে হয়েছে। মারা যাওয়ার দুদিন আগেও যখন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন, সেদিনও ঘরে একটি টাকা ছিল না। বারবার আমার হাত ধরে আকুতি জানাচ্ছিলেন, “আমাকে ছেড়ে যেয়ো না”। পরে প্রতিবেশীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

রুমা হক আরও বলেন, অনেক সময় তাঁর পরিবার সাহায্য করেছে। তাঁর (জজ মিয়া) ওষুধের টাকা নিজের বাবার কাছ থেকে চেয়ে এনেছেন অসংখ্যবার। রুমার দাবি, জজ মিয়ার অনেক জমি অন্যের দখলে আছে। স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করলে সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব। অন্যথায় ৯ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাঁচার কোনো পথ খোলা নেই তাঁর।

রুমা প্রথম আলোকে বলেন, মৃত্যুর আগপর্যন্ত ঢাকায় থাকা প্রথম স্ত্রী আর মেয়েরা কখনোই জজ মিয়াকে দেখতে আসেননি। তবে স্ত্রী মাঝেমধ্যে ফোন করে জজ মিয়ার সঙ্গে কথা বলতেন।

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সাবেক সংসদ সদস্যের পরিবারের অসহায় অবস্থার বিষয়টি জেনেছি। সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।