ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেতাগীতে মহিলা মাদ্রাসায় নিয়োগ পেলেন অধ্যক্ষের মেয়ে ও ভাগিনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৯, ২০২৩ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
পঠিত: 13 বার
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেতাগী উপজেলার দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। লিখিত পরীক্ষায় আগেই প্রশ্ন বলে দিয়ে অধ্যক্ষ তার মেয়ে ও ভাগিনাকে নিয়োগ পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ করিয়েছেন বলে এমনই অভিযোগ করা হয়েছে। এবিষয়ে নিয়োগ বঞ্চিত একাধিক প্রার্থী বরগুনা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিস্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করছেন।

গত শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩ টায় বেতাগী উপজেলার পৌরশহরের দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ওই নামমাত্র নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
এতে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুস সালামের মেয়ে সুমাইয়া সুলতানা শেফা, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে তার ভাগিনা মো. মারুফ এবং অপর দুটি পদে অধ্যক্ষের পছন্দের দুই প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদ্রাসার অফিস সরহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন কর্তৃপক্ষ। পদগুলোতে আবেদন করেন ২৮ জন প্রার্থী।
গত ৬ জানুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। কিন্তু পরীক্ষার আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মেয়ে ও ভাগিনাসহ বিভিন্ন পদে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার গুঞ্জন শুরু হয় ও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এসবের তোয়াক্কা না করে ওই দিন অনুষ্ঠিত সাজানো নিয়োগ পরীক্ষায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার মেয়ে ও ভাগিনাকে এবং অপর দুটি পদে অধ্যক্ষের পছন্দের দুই প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় আগেই প্রশ্ন বলে দিয়ে তাদেরকে নিয়োগ পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ করানো হয়। এভাবে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের ৬ প্রার্থীর মধ্যে অধ্যক্ষের মেয়ে সুমাইয়া সুলতানা শেফা, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদের ৯ প্রার্থীর মধ্যে অধ্যক্ষের ভাগিনা মো. মারুফ, নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশপ্রহরী পদে অধ্যক্ষের পছন্দের দুই প্রার্থী মো. রাজু এবং মো. রাকিবকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। শুধূ তাই নয়, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে তার আর এক মেয়ে ছাইমা সুলতানা তৃণাকেও আবেদন করিয়ে সুমাইয়া সুলতানা শেফা দুই বোনকে পাশাপাশি বসিয়ে সাজানো পরীক্ষা নেওয়া হয়।
অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থী সুমি আক্তার বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিজেই লিখিত পরীক্ষায় আগেই প্রশ্ন বলে দিয়ে লোক দেখানোর জন্য নামেমাত্র নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছেন। তিনি বারং বার পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের অভয় দিয়েছেন। তা দেখে আমরা কয়েকজন প্রার্থী প্রতিবাদও করি। কিন্তু নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা তাতে সাড়া দেননি। তাই আমিসহ কয়েকজন ভাইভা পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই সেখান থেকে চলে আসি।

মো. জসিম উদ্দিন নামে এক প্রর্থীর স্বামী অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ডিজি’র প্রতিনিধিদের আগে থেকেই ম্যানেজ করে রেখেছিলেন। ঔ প্রতিনিধি বেতাগীতে পদার্পন করে অধ্যক্ষের বাসায় ওঠেন। এমনকি তিনি তার অনুসারীদের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য করেছেন। তারা অধ্যক্ষের পছন্দের প্রার্থীদেরকে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন পত্র সরবরাহ করে। তারাই আবার সেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধ্যক্ষ আবদুস সালাম প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই কয়েক বছর আগে তার স্ত্রীকেও এই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই মাদ্রাসায় তার শ্যালক ও চাচাতো বোনেরও বর্তমানে কর্মরত রয়েছে। তিনি মাদ্রাসাটিকে একটি পরিবার কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন।

দারুল ইসলাম মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুস সালাম জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় কোন স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। যারা সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তাদেরকেই নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। যারা অভিযোগ দিয়েছেন তারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, মাদ্রাসার নিয়োগের বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।