ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৪৩

পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্রিজ নির্মাণ: দুর্ভোগের পর্যটকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২২ ৭:০৩ অপরাহ্ণ
পঠিত: 78 বার
Link Copied!

তালতলীতে সোনাকাটা ইকো পার্কের প্রবেশ খাল পারাপারের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে পুরনো ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এতে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সহ স্থানীয় মানুষ খাল পাড়াপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। পারাপারের জন্য স্থানীয় উদ্যোগে ছোট নৌকার ব্যবস্থা করা হলো ভোগান্তির কমতি নেই সেখানে। শুধুমাত্র খাল পাড়াপারে ভোগান্তির জন্য মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পর্যটকরা। সোনাকাটা টেংরাগিরি পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণ রাস পাওয়ায় সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসী ও পর্যটকরা দ্রæত বিকল্প সড়ক নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল উপজেলার সর্বদক্ষিণের সোনাকাটা ইউনিয়নের টেংরাগিরি বনের দক্ষিণাংশ বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র সোনারচর। বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ সমুদ্রতীরের অবস্থিত এ এলাকাটি আনন্দ বিনোদনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত আসছে অগণিত পিকনিক পার্টি। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে সোনারচর এ অবস্থিত এই ইকোপার্কটি। অসাধারণ এ পর্যটন স্পটটি চারদিকে সবুজ সারি সারি গাছ। সামনে বিশাল সমুদ্র সৈকত। সৈকতে যেতে হলে একটি খাল পার হয়ে যেতে হয়।এই খানের পুরনো বৃষ্টি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পর্যটকবাহী স্থানীয়দের চলাচলের জন্য কোন প্রকার বিকল্প ব্যবস্থা করেনি। ৭২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ করে আমির ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুর দিকে আগের পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলে। বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি না করায় টেংরাগিরি ইকোপার্কের সোনাকাটা সমুদ্রসৈকতে হাজার হাজার মানুষের চলাচলের অবর্ণনীয় সমস্যা হচ্ছে। একমাত্র পারাপারের সমস্যার কারণে টেংরাগিরি ইকোপার্ক সমুদ্রসৈকত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েন বলে সচেতন মহল মনে করছেন। শুধুমাত্র একটা খেয়ার জন্যই বনবিভাগ প্রতিদিন হচ্ছে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব। টেংরাগিরি ইকোপার্কের সমুদ্র সৈকত প্রবেশপথে নির্মাণাধীন ব্রিজটির কাছে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক পর্যটক খেয়া পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। খেয়া পারাপারে নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার তিন চার গুণ বেশি লোক পার হচ্ছে। অসংখ্য পর্যটক কে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় খেয়া পারাপারের জন্য। একাধিক পর্যটক জানান, এখানে ঘুরতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বনের ভেতর যেতে হলে একটি নদী পার হতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণ না করার ফলে পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হয়ে ইকো পার্কে প্রবেশ না করে অধিকাংশ ফিরে যাচ্ছে। তালতলী উপজেলার রেঞ্জ অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্রীজ নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার বলা হলেও ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ব্রিজ নির্মাণে ধীরগতির কারণে এখানে পর্যটক কমে যাচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে প্রচুর রাজস্ব। তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মদ আলী বলেন, ওই খালে পানির স্রোত মাত্রাতিরিক্ত থাকায় বিকল্প হিসেবে কোন সাঁকো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওছার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই একটি কার্যকরী একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যাতে পর্যটকরা সোনাকাটা ইকোপার্ক স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।