ঢাকাশনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৪৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ট্রাকপ্রতি চাঁদা নেওয়া হয় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত!

নিজস্ব প্রতিনিধি
এপ্রিল ২০, ২০২২ ৮:২১ অপরাহ্ণ
পঠিত: 105 বার
Link Copied!

ইজারা আদায়ের নামে বরগুনার আমতলীর বিভিন্ন মোড়ে তরমুজবাহী ট্রাক থামিয়ে সর্বোচ্চ নয় হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাজারের হাটের খাজনা, ইজারা, টোল নামে প্রভাবশালী চক্র ওই সব চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিদিন আমতলী থেকে ৮০-৯০টি ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ নিয়ে যায়। বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরমুজচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া, চক্রটিকে তরমুজচাষি ও ব্যবসায়ীদের ট্রাকপ্রতি ৩ শ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযাগ রয়েছে।

ওই চক্রটি চাঁদা আদায়ের জন্য কৌশলে ইজারার নামে ছাপানো রশিদ ব্যবহার করছেন, আবার কেউ কেউ রশিদ ছাড়াই বলপ্রয়োগ করে টাকা আদায় করছেন। কোনো ট্রাক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তরমুজবাহী ট্রাক আটকে রাখে।

জানা যায়, আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তরমুজ ব্যবসায়ীরা এসে তরমুজ ক্রয় করে ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান।

তরমুজ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ট্রাক গাজীপুর, তালুকদার বাজার, সুবান্ধী, কাঠালিয়া, বিশ্বাসের হাট, তালুকদার বাজার কুকুয়া হাট অবস্থান করেন। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ট্রাক থেকে ৩ শ টাকা করে এক হাজার টাকা, এমনকি ৯ হাজার টাকাও চাঁদা আদায় করছে।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনা আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র সংলগ্ন সড়কে প্রতিটি ট্রাক থেকে জোরপূর্বক ৮ শ থেকে এক হাজার পাঁচ শ টাকা আদায় করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ওহাব হাওলাদারের লোকজন।

উপজেলার বিশ্বাসের হাট, অফিস বাজার, তালুকদার বাজার, সুবান্ধি বাজার, কুকুয়া বাজার, সাহেব বাড়িসহ উপজেলা বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. বাতেন দেওয়ান বলেন, তরমুজ বিক্রির শুরু থেকেই গাজীপুর এলাকায় ট্রাক প্রতি চালকদের কাছ থেকে ৩ শ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ শ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন ইজারার নামে একটি প্রভাবশালী চক্র।

তিনি আরও বলেন, চাঁদা দিতে না চাইলে ট্রাক আটকে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী, কৃষক ও ট্রাকচালকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তবে চাঁদা আদায়কারীরা জানান, ইজারার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাক ও বেপারীদের কাছ থেকে তারা টাকা তুলছেন।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম বলেন, ‘তরমুজ পরিবহনে চাঁদা বন্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা নাহলে তরমুজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘চাঁদা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। এলাকার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, যদি কারোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।