ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫৮

চার মাসেও ব্যাংকার নজরুলের খোঁজ মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৯, ২০২২ ১:০১ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 85 বার
Link Copied!

চার মাসেও খোঁজ মেলেনি রাজধানীর শনির আখড়া থেকে নিখোঁজ হওয়া অগ্রণী ব্যাংকের মতিঝিলের বি-ওয়াপদা শাখার সিনিয়র অফিসার নজরুল ইসলামের (৫৭)। নজরুলের খোঁজ না পাওয়ায় উৎকন্ঠায় রয়েছে পরিবার।

নিখোঁজ নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। রুবিনা ও নজরুল দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। ছোট ছেলে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী।

নিখোঁজের স্ত্রী রুবিনা জানান, নজরুল ইসলাম ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা-পৌনে ৯টার দিকে বের হন। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইলের একটি সঙ্গে নিয়ে যান। তবে সেটিও রাতে বন্ধ হয়ে যায়।

রুবিনা বলেন, তার মোবাইল প্রায়ই এমন বন্ধ পাওয়া যেত। ওইদিন রাতে তিনি আর ফেরেননি। কয়েকবার কল দিলেও নম্বর বন্ধ পাই। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি জানাই। তারাও কেউ খোঁজ দিতে পারছিল না।

নজরুলের ছোট বোন জেসমিন বলেন, আমাদের বাবা নেই। বড় ভাই আমাদের বাবার মতো। সে চার মাস ধরে নিখোঁজ। আমরা ভাই-বোনরা পাগলের মতো ছোটাছুটি করছি। কোথাও হদিস পাচ্ছি না। ঘটনার পর পুলিশ, পিবিআই ও র‌্যাব তদন্ত করেও কেউ এখনও আপডেট দিতে পারেনি।

নজরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে যেতে পারেন বলে ধারণা স্ত্রী রুবিনার।

রুবিনা বলেন, নিখোঁজের আগে তিনি ব্যাংকের চাবি বুঝিয়ে দিয়ে এসেছেন। এছাড়া প্রবাসী এক নারীর সঙ্গেও তার পরিচয় ছিল।

নজরুলের বোন মঞ্জু বলেন, যদি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনেও থাকে তবুও তাকে বের করা হোক। তাকে বের করে ঘটনা উদঘাটন করা হোক।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ কেন ঘটনা উদঘাটন করছে না? কেন ধারণার ওপর নির্ভর করে মন্তব্য করা হচ্ছে?

নজরুল ইসলাম উত্তরখান ও তুরাগ এলাকায় জমির ব্যবসা করতেন বলে জানিয়েছেন স্ত্রী রুবিনা।

তিনি বলেন, তার সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। আমাদের কোনও শত্রুও নেই।

ঘটনার পর স্বজনরা যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নিখোঁজের বড় বোন মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, কোথাও কেউ কোন সহযোগিতা করছেন না। গত ৩ এপ্রিল এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম মামলা নেননি।

তবে ডিএমপির উত্তরখান থানায় স্ত্রী রুবিনা একটি জিডি করেছেন বলে জানান মঞ্জু।

মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বরে কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ জানান, মামলা না নেওয়ার কোন কারণ নেই। অবশ্যই অভিযোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি জানতাম না। স্বজনরা এলে অভিযোগ নেওয়া হবে।

নিখোঁজ নজরুল ইসলামের সন্ধান ও নিরাপত্তার দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। নজরুল ইসলামের দুই বোন মঞ্জু আক্তার ও কামরুন নাহার এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মঞ্জু ও কামরুন নাহার বলেন, নজরুল ইসলামের সন্ধান ও নিরাপত্তার দাবিতে আমরা গত ২৭ জানুয়ারি দুপুরে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হই। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা দুই বোন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুহৃদ সালেহীনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিঝিলের অগ্রণী ব্যাংকের ওই শাখায় ১৩ বছরেরও বেশি সময় চাকরি করেছেন নজরুল ইসলাম। ব্যাংকের লকারের চাবি তার কাছেই থাকতো। কখনও কারও কাছে তিনি চাবি দিতেন না। কিন্তু গত ৬ জানুয়ারি অফিস থেকে আসার সময় চাবিটি সহকর্মীদের কাছে দিয়ে এসেছেন তিনি।

উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ বলেন, ঘটনার পর আমরা অগ্রণী ব্যাংকের ওই শাখায় গিয়ে কথা বলেছি। সবাই বলেছেন, নজরুল ইসলাম হাসিখুশি মানুষ। সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন। ব্যাংকের লকারের চাবি তার কাছেই ছিল। ৬ জানুয়ারি চাবিটি সহকর্মীদের কাছে দিয়ে যান। পরদিনই নিখোঁজ হন।

নজরুল ইসলাম দেশের বাইরে গেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়েছি। দেশের বাইরে যাওয়ার কোনও তথ্য পাইনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।