ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৫৭

কমে আসছে বনাঞ্চলের আয়তন, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিেিবদক
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২২ ৭:১২ অপরাহ্ণ
পঠিত: 49 বার
Link Copied!

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বনদস্যুদের থাবায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে বরগুনার সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে বন রক্ষায় উদাসীন বন বিভাগ এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বনাঞ্চল রক্ষা করতে না পারলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দক্ষিণাঞ্চল।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য মতে, মিনি সুন্দরবনখ্যাত বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি বনাঞ্চল থেকে প্রতি বছর ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার বড় গাছ কেটে নিয়ে যায় বনদস্যুরা। এছাড়া তীব্র নদীভাঙন ও ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যে কত গাছ নষ্ট হয় তার কোনো হিসাব নেই। ফলে দিন দিন গাছ কমে আয়তনে ছোট হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
জেলা বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৬৪৮ দশমিক ৩ একর আয়তন নিয়ে তালতলীর টেংরাগিরি বনকে ১৯৬০ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। তবে গত ৬২ বছরে বনের ৩ হাজারেরও বেশি এলাকা বিলীন হয়েছে সাগরে। বনদস্যু, ঘূর্ণিঝড়, ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে তিন লক্ষাধিক গাছ।
তালতলীর টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনে গিয়ে দেখা যায়, বনের গহিন থেকে বড় বড় কেওড়া, সুন্দরী, গেওয়াসহ নানান প্রজাতির গাছ কেটে বন উজার করে নিয়ে গেছে বনদস্যুরা। বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে হওয়ায় বনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে তীব্র ভাঙনে অনেক গাছ উপড়ে গেছে। বনটি সংরক্ষিত হওয়ায় এ বনের ভেতরে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও বনের ভেতরে অবাধে চলাফেরা করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাকিম মৃধা, মনোয়ার, সত্তারসহ কয়েকজন বলেন, রোজ বনের মধ্য থেকে বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বনদস্যুরা। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল, শাহাদাত মাঝি, হরিশঙ্করসহ কয়েকজন বলেন, প্রতিবছরই কোনো না কোনো ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে হয় আমাদের। এই বন ঘূর্ণিঝড় থেকে আমাদের রক্ষা করে। কিন্তু প্রতিনিয়ত এই বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসছে। বনদস্যু নির্মূল এবং ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বন বিভাগ।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুশফিক আরিফ বলেন, ভাঙন এবং বন নিধনের কারণে প্রাকৃতিক ঢাল এই টেংরাগিরি বনাঞ্চল এখন হুমকির মুখে। প্রতি বছর এখান থেকে হাজার হাজার গাছ কেটে নিয়ে যায় দস্যুরা। বন বিভাগের এই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে চরম মূল্য দিতে হবে। যা পরিবেশের জন্য খুবই ভয়াবহ হবে।
বরগুনার সংরক্ষিত বন রক্ষা কমিটির সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বনদস্যুদের কাছে বনের গাছ পাচার করছেন। স্থানীয়দের কাছে যার অনেকগুলো প্রমাণ রয়েছে। এমনকি সংরক্ষিত বনের গাছ বিক্রি করার সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক বনরক্ষী। বন বিভাগের খামখেয়ালিপনা বন্ধ না হলে অস্তিত্ব হারাবে টেংরাগিরি।
বন বিভাগ বরগুনা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় নতুন করে বনায়ন করে এবং শেল্টার বেল্ট তৈরি করে ভাঙন রোধ করা হবে। এছাড়া নতুন করে কিছু চরাঞ্চলে বনায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বনদস্যু নির্মূলে তৎপর রয়েছি আমরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।