ঢাকামঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:১০

এক লাফে ১০ টাকা মূল্য বাড়ল ডলারের

সৈকত সংবাদ
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ ১০:০৬ অপরাহ্ণ
পঠিত: 85 বার
Link Copied!

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা থেকে হঠাৎ করে মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর ) ১০৬ টাকা ঘোষণা দিয়েছে। আর আন্তব্যাংক ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ১০১ টাকা ৬৭ পয়সা। এই রেট ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ডলারের বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছিল ৯৫ টাকা। গত সোমবার ডলারের দাম ১ টাকা বাড়িয়ে ৯৬ টাকা করা হয়। কিন্তু আজ ওয়েবসাইটে ডলারের বিক্রয়মূল্য দেখানো হচ্ছে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আর ক্রয়মূল্য দেখানো হচ্ছে প্রায় ১০১ টাকা ৬৭ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময়মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকাপ্রকাশ-কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখন থেকে ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ডলার বিক্রি করবে না। তবে সরকার চাইলে এলসি খোলার জন্য প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করবে। কারণ, সরকার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।’

তাহলে ওয়েবসাইটে হঠাৎ ৯৬ টাকা থেকে বিক্রয়মুল্য ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা কেন ঘোষণা করা হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাফেদা ও এবিবির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা নিজেরা নিচেদের মধ্যে ডলার বেচা-কেনা করবে। সেই বিনিময় রেট হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা জানিয়ে দিবে।

উল্লেখ্য, এক বছরের ব্যবধানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কারণ এক বছর আগে ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ২০ পয়সা। বিকালেও বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রয়মুল্য ৯৫ টাকা ও বিক্রিয় মূল্য ৯৬ টাকা বলে উল্লেখ করে ওয়েবসাইটে।

কিন্তু খোলাবাজারে নেই ডলার বিক্রি হচ্ছে আরও চড়া দামে। সোমবার ১১৪ টাকা ২০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। রবিবার বাফেদা ও এবিবির সভায় সব ব্যাংকে একক দর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কার্যকর হয়নি। এর দুইদিন পরেই ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন করলো বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের আগস্টে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। চলতি বছর এপ্রিল মাসে বৃদ্ধি পেয়ে ডলারের দাম হয়ে যায় ৮৬ টাকা ৪৬ পয়সা। এরপর মে মাসে টাকার অবমূল্যায়ন হয় ৪ বার। আর জুন মাসে অবমূল্যায়ন হয় ৬ বার।

ডলার সংকট কমাতে ঋণ মার্জিন বৃদ্ধি, প্রায় প্রতিদিন ডলার বিক্রিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না। দিন দিন কমছে টাকার মান।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা মিলে গত রবিবার প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা, আমদানি দায় নিষ্পত্তিতে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা ও রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করেন ৯৯ টাকা। সোমবার থেকে সব ব্যাংক এই একই দরে ডলার কেনাবেচা করবে বলে সিদ্ধান্তও হয় ওই সভায়। কিন্তু তা কার্যকর করেনি কোনো ব্যাংক।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ৯৬ টাকা দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। সরকারি আমদানি বিল মেটাতে ব্যাংকগুলোর কাছে এ ডলার বিক্রি করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার কি পরিমাণ ডলার বিক্রি করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মুখপাত্র।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।