ঢাকারবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:১৫

আমতলীতে সরকারি খাল ইজারা নিয়েও মাছ চাষ করতে পারছেন না ইজারাদার!

আমতলী প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২৯, ২০২২ ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 53 বার
Link Copied!

আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের কুলাইরচর গ্রামের সরকারী দুষমী (সাবানিয়া) খাল তিন বছর মেয়াদে ইজারা নিয়েও মাছ চাষের আওতায় আনতে পারছেনা ইজারাদার। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার সমর্থিত নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ইন্দনে স্থানীয় কতিপয় দুষ্কৃতিকারী জলমহালের মাছ, বেড়া, সাইনবোর্ড ইত্যাদি লুটপাট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন উত্তর পশ্চিম টেপুরা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি জলমহালের ইজারাদার মোঃ রাশেদুল ইসলাম মৃধা।

জানা যায়, দুষমী সাবানিয়া খালের দুই পাড়ের কয়েকশত একর ফসলী কৃষি জমি রয়েছে। এ খালটিতে জোয়ার ভাটার পানি উঠায় ১২ মাস পানি থাকে। শুকনো মৌসুমে কৃষকরা ওই খালের পানি দিয়ে রবিশস্য, তরমুজ, মুগডাল, চিনা বাদাম, মিষ্টি আলুসহ বোরো ও ইরি ধানের চাষাবাদ করে থাকেন। উপজেলা নির্বাহী অীফসারের কার্যালয় থেকে বাংলা ১৪২৮ সাল থেকে ১৪৩০ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে সরকারী দুষমী (সাবানিয়া) খালের ইজারা দেয়া হয়। বিগত নির্বাচনগুলোতে এলাকার একটা বিশেষ পরিবারের পক্ষে কাজ করতে না পারার কারণে ওই পরিবারের লোকজন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় আমি রোষানলে পরেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে তিনি বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। আজকে ওই বন্দোবস্তকৃত জলমহালে যাতে মাছ চাষ করতে না পারি এ জন্য এরকম কর্মকান্ড উনি (ইউপি চেয়ারম্যান) প্রকাশ্যে- অপ্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন। খালের পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করতে না দেয়া, পানি ব্যবহারকারী কৃষকদের মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, এলাকার কৃষিজীবীদের পালিত গরু ছাগল জলমহালের পানি পান করতে না দেয়া এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ রটিয়ে বন্দোবস্ত জলমহালের ইজারা বাতিলের দাবিতে ক্ষমতাধর প্রভাবশালীরা পর্দার আড়ালে থেকে সহজ সরল লোকজন দিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পর্যন্ত করিয়েছে।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইজারা দেয়া ওই জলমহালের দু’পাড়ে দেয়া ঘন জালের বেড়া উপড়ে নেয়া হয়েছে। উপড়ে ফেলা হয়েছে জলমহলের সাইনবোর্ড। স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে চেয়ারম্যানের লোকজন খালের মাছ ধরে নিয়ে গেছে।

সরেজমিনে আরো দেখা যায়, বেশ কয়েকজন কৃষক ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে শীতকালীন ফসল ফলানোর জন্য ক্ষেত তৈরি করছেন। বোরো ধানের ক্ষেত তৈরীতে বেশ কয়েকটি পানি সেচের পাম্প খালের দুপাশে অব্যাহতভাবে চলছে। অনেকেই খালে গরু ছাগলকে নির্বিঘেœ গোছল করচ্ছেন। যথারীতি খালটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী। কৃষকদের দাবী, পানি নিষ্কাশনে কোন প্রকার বাঁধা না থাকলে ইজারাদারের মৎস্য চাষে কৃষকদের পক্ষ থেকে কোন বাঁধা থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট ইজারাদার মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানায়, খালে মাছ চাষের পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের কৃষিকাজ ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহার করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ইজারাদারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার বাঁধা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ওই খালে মাছ চাষ করা হলে খালের দুপারের অধিবাসীরাই উপকৃত হবেন। খরা মৌসুমেও খালে যাতে পানি থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে। সব সময় খালে পানি থাকলে খালের দুপাড়ের কৃষকরাই তাদের প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার করতে পারবেন এবং এলাকার কৃষি সবজি হতে শুরু করে সকল প্রকার কৃষি সুবিধা এলাকাবাসীরাই ভোগ করবেন।

কথা হয় ওই খাল থেকে পানি সেচ দেওয়া শিশির, রিফাত, রহিম প্যাদাসহ একাধিক কৃষকের সংঙ্গে। তারা জানায়, আমরাসহ আরো অনেক কৃষক তাদের বোরো ধানের জমি তৈরীতে ওই খাল থেকেই পানির পাম্প বসিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি নিচ্ছি। ইজারাদার কখনো ওই খাল থেকে আমাদের পানি নিতে বাঁধা প্রদান করেননি।

ওই এলাকার আঃ মন্নান খানসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, খালটিতে মাছ চাষ শুরু করলে ইজারাদার আমাদের আর ওই খাল থেকে পানি নিতে দিবে না। এজন্য আমরা ভূক্তভোগী কৃষকরা ওই খালের ইজারা বাতিলের দাবী জানাচ্ছি।

অপর কৃষক আফজাল মৃধা জানায়, বন্দোবস্ত দেয়া সরকারী দুসমী (সাবানিয়া) খালটিতে জোয়ার ভাটার পানি উঠা নামা করে। আর আমাদের কৃষিকাজের প্রয়োজনে ওই খাল থেকে পানি নিতে ইজারাদার কখনো বাঁধা দেয়নি বরং কতিপয় দুষ্কৃতিকারী জলমহালের মাছ, বেড়া, সাইনবোর্ড ইত্যাদি লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

ইজারাদার রাশেদুল ইসলাম দাবি করেন, শুধুমাত্র বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণেই আজকে এলাকার সহজ সরল মানুষ দ্বারা জলমহালটি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে।

হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, সরকারী দুসমী (সাবানিয়া) খালটির পানি কৃষকের জমি চাষাবাদে খুবই প্রয়োজন। ওই খালের পানি দিয়েই এলাকার কৃষকরা তাদের জমি চাষাবাদ করে থাকেন। ওই খালের ইজারা বাতিলের জন্য কৃষকরা জেলা প্রশাকর বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। আমি আশা করবো উপজেলা প্রশাসন ওই খালের ইজারা বাতিল করে এলাকায় শান্তি বিরাজ করার ব্যবস্থা করবেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাজমুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি গতকাল সরেজমিনে সরকারী দুসমী (সাবানিয়া) খালটি তদন্তের জন্য পরিদর্শন করেছি। দ্রæত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল্লাহ বিন রশিদ মুঠোফোনে বলেন, সরকারী দুসমী (সাবানিয়া) খালটির ইজারা বাতিলের জন্য ডিসি স্যারের কাছে দেওয়া অভিযোগের বিষয় তদন্ত করার জন্য এ্যাসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।