ঢাকাশনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৫৬

হয়নি সংস্কার, ইউপি ভবন ধসে প্রাণ হানির আশঙ্কা

আমতলী প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
পঠিত: 73 বার
Link Copied!

আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লক্সে ভবনটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ন হয়ে পরেছে। ভবনটি এতই নড়বরে হয়ে পড়েছে যে কোন সময় ধসে প্রাণ হানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় মানুষ ও জন প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে টেপুরা অফিস বাজার এলাকায় নির্মান কর হয়। ভবনটি নির্মানের পর আর কোন সংস্কার করা হয়নি।

সংস্কারের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। ছাদের এবং দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারার খসে পড়েছে। বর্ষার সময় ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। কাঠের দরজা জানালা অনেক আগেই পোকায় খেয়ে নষ্ট করে ফেলায় খুলে পড়ে গেছে। স্টীলের দরজাগুলো মরিচা ধরার কারনে এখন আর আটকানো যাচ্ছে না। সংস্কারের অভাবে ভবনটি এতই দুর্বল হয়ে গেছে যে ভবনে দোতালায় উঠলেই কাঁপতে থাকে। ভয়ে এই ভবনে এখন আর কেউ ওঠার সাহস করে না। দরজা জানালা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে অফিসের চেয়ার টেবিল স্টীলের আলমিরা থেকে শুরু করে সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যরা অফিস করতে পারছে না। জন সাধারনরাও এখানে এসে বসতে না পারায় মাঠে কিংবা সামনের চায়ের দোকানে বসে কাজ সারে।

দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের মোশারফ মোল্লা বলেন, ইউপি ভবনে আমরা উঠতে ভয় পাই। কোন সময় আবার ভাইঙ্গা যায়।

কাঁঠালিয়া গ্রামের রফেজ বলেন, ভবনে উটলে কাপতে থাকে। হেই ভয়ে নীচে বইয়া চেয়ারম্যান মেম্বারেগো লগে কাম হাইর‌্যা চইল্যা আই।

অফিস বাজারের স্থানীয় খুচরা যন্ত্রপাতির ব্যবসায়ী সামসু কাজী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি অনেক আগে উডাইন্যা অইছে। হেইয়ার পর আর কোন কাম করে নাই। এহন অনেক জায়গা দিয়া পেলাস্টার উইড্যা গ্যাছে। দেওইর দিনে ছাদ দিয়া পানি পরে। উপরে উডলে লড়তে থাহে। হেইর লইগ্যা মোরা ওই ভবনে যাই না।

ইউপি সদস্য মো. আবু ছালেহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির খুই খারাপ অবস্থা। ভয়ে আমরা কেউ এখন আর বসি না। জনগনের সেবার জন্য আমরা ওই ভবনের আশে পাশের দোকানে বসে কাজ সারি।

হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, ২০০৪ সালে দায়সারা ভবাবে ভবনটি নির্মান করার পর আর কোন সংস্কার না করায় ভবনের ভিতরের পলেস্তারার খসে পরেছে। দরজা জানালা নেই। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পরে। সাধারন মানুষ সচিব ও সদস্যরা ভয়ে কেউ এখন আর ভবনের ভিতরে বসতে চায় না। যে কোন সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে। ভবনের দুরবস্থার কথা এলজিইডির প্রকৌশলী ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে।

আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভবনটির সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। টাকা পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আবদুল্লা বিন রশিদ বলেন, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটির দুরবস্থার কথা শুনে সরেজমিন পরিদর্শন করি। ভবনটি সংস্কার করা প্রয়োজন। এটি সংস্কারের জন্য এলজিইডিকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।