ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:৩৩

আনন্দ নেই ওদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ৪, ২০২২ ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 40 বার
Link Copied!

ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চ গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ঝালকাঠির সুগন্ধ্যা নদীতে পৌঁছালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নিখোঁজ হন আরও অনেকে। সেই দুর্ঘটনার চার মাস পর এসেছে ঈদ। তবে খুশির পরিবর্তে কষ্ট তাড়া করছে স্বজন হারাদের।

লঞ্চ দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদেরই একজন হাফসা (১৮)। তার বাবা বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের হাকিম শরীফ, মা পাখী বেগম ও ভাই নাসরুল্লাহ। অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা ও ভাই তিনজনকেই হারান হাফসা। হাফসার আরও দুই ভাই-বোন রয়েছে। সুমাইয়া আক্তার (১৪) ও ফজলুল হক (১০)। তারা সবাই অভিভাবকহীন। সম্প্রতি প্রকাশিত মাধ্যমিকের ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে হাফসা। তার কাঁধে এখন ছোট দুই ভাই-বোনের দায়িত্ব।

হাফসা বলেন, ‘প্রতি ঈদে বাবা ঢাকা থেকে আমাদের তিন ভাই-বোনের জন্য ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনে নিয়ে বাড়তে আসতেন। এবার ঈদে আমার বাবা আর বাড়িতে আসে না। ছোট ভাইটায় বলে, আপু বাবা বাড়ি আসবে না? আমাদের জামা-কাপর দিবে না। আমি কোন উত্তর দিতে পারিনি। আমাদের তিন ভাই-বোনের ভাতই জোটে না, ঈদ করি কিভাবে। আমার বাবা-মা, ভাইর লাশটারও কোনো খোঁজ এখনো পেলাম না।’

বরগুনা সদর উপজেলার মোল্লাহোরা গ্রামের সুমন সরদার লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী তাসলিমা, দুই মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও সুমনা আক্তার নিখোঁজ হয়েছে। স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে সুমন এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘ঈদ দিয়া কী করবো। বউ, মেয়ের কোনো খোঁজ পাইনি। আমার বউ, মেতে কি গনকবরে আছে, তাইলে বলেন এট্টু কয়বরটা দেইখ্যা আসি।’

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী গ্রামের বাবুলের মা রেখা বেগম। তার দুই বছরের নাতি জুনায়েদের খোঁজ মেলেনি। জুনায়েদ ও রেখা বেগমকে হারানোর শোক কাটাতে পারেননি বাবুল। তিনি বলেন, ‘আমার মা আর নাতি পাই নায়। ওগো কোমমে পামু হ্যাও জানি না। ঈদ দিয়া কী করমু, মোর আর কি ঈদ আছে। ও আল্লাহ, মোর মায়েরে আর নাতিরে ফিরাইয়া দ্যাও।’

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে ফজিলা আক্তার পপির এখনও খোঁজ মেলেনি। পপির মেয়ে লামিয়া, তার নানা আফজাল হোসেনের কাছে রয়েছেন এক মাস থেকে।
আফজাল বলেন, ‘প্রত্যেক ঈদে তার মা ওর জন্য জামা, খেলনা নিয়া বাড়িতে এসে ঈদ করে যায়। এবার রোজা শুরু হতেই নাতি জিজ্ঞেস করে, নানু মা কি আর আসবে না, আমাকে ঈদের নতুন জামা গায়ে ঘুরাইতে নেবে না। ওরে আমি জামাকাপড় কিনে দিছি। কিন্তু ওর মায়ের অভাব কেমনে দূর করবো।’

বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া গ্রামের উত্তম হালদাদের ছেলে কৃষ্ণ হালদার ঢাকার উত্তরার একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ত। কৃষ্ণ হালদারের মা গীতা রানি ও ছোট ভাই প্রত্যয়কে নিয়ে বামনার গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর গীতা রানি প্রত্যয়কে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। তারা তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কৃষ্ণ নিখোঁজ। কৃষ্ণ হালদারের সন্ধান তারা পাননি।

বরগুনা জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সুগন্ধ্যা ট্র্যাজেডিতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪১ জনের লাশ উদ্ধার হয় ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জন মারা যান। জানুয়ারির ২ ও ৩ তারিখে ঢাকায় চিকিৎসাধীন দগ্ধ দুজন ও সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রয়ারির শুরুতে এক নারী ও তার স্বামী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন মারা যান। নিহতদের মধ্যে শনাক্ত না হওয়ায় ২৩ জনকে বরগুনায় ও একজনকে ঝালকাঠিসহ ২৪ জনকে দাফন করে জেলা প্রশাসন। বাকি ২৬ জনের মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যান স্বজনরা। ঘটনার পর বরগুনা জেলা প্রশাসন নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ৩২ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ নিখোঁজ ৩২ জনের বিপরীতে তাদের ৫১ জন স্বজনের ডিএনএনের নমুনা সংগ্রহ করেছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, শনাক্ত হওয়া মৃতদের স্বজনদের আমরা প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার করে টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। আমরা ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা পেলেই ঠিক কতজন নিখোঁজ আছেন এটা শনাক্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে পারব। এরপর সোশ্যাল সেফটি নেটের আওতায় বিশেষভাবে তাদের সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।