ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৩৪

অফিস দখল নিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের দুই গ্রুপ মুখোমুখি

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৪, ২০২২ ৮:৫১ অপরাহ্ণ
পঠিত: 64 বার
Link Copied!

বরগুনায় অফিস দখল নিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের দুটি সংগঠন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে দুটি সংগঠনের শ্রমিকরা শহরের টাউনহল মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে জেলা পুলিশ।

বুধবার দুপুরে বরগুনার টাউনহল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,ব্যাসিক ট্রেড ইউনিয়ন ও আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিকদের দুটি গ্রুপ কার্যালয় দখল নিয়ে অফিসকে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

বরগুনা আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র রইসুল আলম রিপন। অপরদিকে ব্যসিক ট্রেড ইউনিয়ন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম।

বরগুনা আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সদস্য মোঃ আব্দুল হালিম মোল্লা বলেন, বুধবার গভীর রাতে বরগুনা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত টাউনহল মোড়ে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস কার্যালয় ভাঙচুর করে ভেতরের আসবাবপত্র লুটে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে সকালে আন্তঃজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রইসুল আলম রিপনের পক্ষে দুই শতাধিক ট্রাক শ্রমিক টাউনহল চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। দুপুর দুইটা পর্যন্ত রিপন এর পক্ষে শ্রমিকরা সেখানে অবস্থান নিয়ে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়টি নিজেরা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করে।

অপরদিকে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক নেতা মঞ্জুরুল আলম জন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বরিশাল থেকে বেসিক ট্রেড ইউনিয়ন বরগুনা জেলা শাখার নামে একটি সংগঠন নিয়ে আসেন এবং ওই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস দখলে নেন। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে যুবদল নেতা শাহ আলম, টায়ার রাজু জুলহাস, যুবরাজসহ কয়েকজন ব্যসিক ট্রেড ইউনিয়নের নামে লোড বড় ট্রাক থেকে একহাজার, ছোট ট্রাক থেকে পাঁচশ এবং ট্রান্সপোর্টের অফিস থেকে এক হাজার করে চাঁদা আদায় করতে থাকেন। এছাড়াও দুটি ফেরীঘাটে অবৈধ ইজারা দিয়ে ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি করতে থাকে। সম্প্রতি বরগুনায় উৎপাদিত তরমুজ পরিবহনের জন্য ট্রাকভর্তি এক হাজার করে টাকা চাঁদা নির্ধারণ করে। এনিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আমরা বরগুনার পুলিশ সুপারকে জানালে, তিনি ব্যসিক ট্রেড ইউনিয়নকে অফিস ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। বুধবার রাতের আঁধারে অফিসের দেয়াল ভেঙে ভেতরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা আজকে জড়ো হয়েছে এবং তারা তাদের অফিস ফেরত পেতে চায়।

ব্যসিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম চাঁদা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, গতবছরের শুরুতে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে আমার কাছে আসে। আমি শ্রমিকদের স্বার্থে ব্যসিক ট্রেড ইউনিয়নের দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করে চাঁদা থেকে রক্ষা করেছি। তরমুজ পরিবহনের মৌসুম আসায় আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ফের চাঁদাবাজির প্রস্ততি নিয়ে রাতের আঁধারে আমাদের অফিস ভেঙে সকাল থেকে সেটি দখলের চেষ্টা করছে। আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির সহায়তা নিয়েছি। এ নিয়ে শ্রমিক নেতা ও জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তাই মানব।

বরগুনা আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রইসুল আলম রিপন বলেন, সারাদেশের মত বরগুনায়ও আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। হঠাত করে বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের নামে একটি সংগঠন আমাদের কার্যালয় দখলে নিয়ে ব্যপক চাঁদাবাজি শুরু করে। আমরা বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনিকে জানিয়েছি এবং তাদের সহায়তায় আমরা আমাদের অফিসে ফিরতে চাই।

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছি। আশা করি বিষয়টি সমাধান হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।